ভাঙনের মরশুমে এবার উঠেই গেল বাইপাসের হাইটেক তৃণমূল কার্যালয়!

মেট্রোপলিটান বাইপাসের ধারের কর্পোরেট ধাঁচের তৃণমূল ভবনটি অবশেষে বন্ধ হতে চলেছে। ২০২২ সালে সাড়ম্বরে পুজো ও যজ্ঞ করে চালু হওয়া এই পার্টি অফিসটি খালি করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বাড়ির মালিক মন্টু সাহা এবং তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই ভবনের চার ও পাঁচতলার দখল নিয়েছেন। ফলে, কালীঘাটের বাইরে কলকাতায় তৃণমূলের আর কোনও প্রধান কার্যালয় অবশিষ্ট থাকছে না। শাসকদলের এই ভাঙনের আবহে দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তি বিতর্ক ও আংশিক উচ্ছেদ
মন্টুবাবুর পরিবার সূত্রে দাবি, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই বাড়িটি তৃণমূলকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। মেয়াদের পর মৌখিক চুক্তিতে আরও কয়েক মাস দল কার্যালয়টি ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। যার জেরে মঙ্গলবার বাড়ির মালিক তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে এসে চার ও পাঁচতলার ব্যানার, পোস্টার ও চেয়ার সরিয়ে ঘর খালি করার কাজ তদারকি করেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিচের তলাগুলিও খালি করে দেওয়া হবে বলে তাঁদের দাবি। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই বাড়ির চুক্তির মেয়াদ রয়েছে এবং চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ভাড়াও মেটানো হয়েছে। এই নিয়ে স্থানীয় থানায় তথ্য জানানোর পাশাপাশি মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
মেট্রোপলিটান বাইপাসের এই কার্যালয়টি লিফট, ছোট ছোট বৈঠকখানা, সিসিটিভি এবং কড়া নিরাপত্তা বলয়-সহ আধুনিক কর্পোরেট পরিকাঠামোয় পরিচালিত হতো। এখান থেকেই দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সদর দপ্তরটি হাতছাড়া হওয়া তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যকলাপে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। দল পরিচালনার সমস্ত মূল কেন্দ্রবিন্দু পুনরায় কালীঘাটের পুরোনো কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার জেরে দলের অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।