আবেদন করলেই মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, বিভ্রান্তি দূর করতে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করার সাথে সাথেই কি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে? রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া এমন নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলাশাসকদের সঙ্গে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, আবেদন করলেই তড়িঘড়ি টাকা পাওয়া যাবে না, তার আগে নির্দিষ্ট নিয়মে স্ক্রুটিনি বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
যাচাই প্রক্রিয়ায় জোর প্রশাসনের
প্রশাসন সূত্রে খবর, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তবে একই সঙ্গে দ্রুত টাকা পাওয়ার একটি ভুল ধারণাও তৈরি হয়েছে অনেকের মনে। এই জনবিভ্রান্তি দূর করতেই মূলত জেলাশাসকদের সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিটি আবেদনপত্র যেন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হয়। কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো না করে, শুধুমাত্র প্রকৃত এবং যোগ্য উপভোক্তারাই যাতে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব ও স্বচ্ছতা
বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সরকারি তহবিলের অপচয় এবং স্বজনপোষণ রোধ করা সম্ভব হবে। তড়িঘড়ি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই কঠোর যাচাইকরণের কারণে উপভোক্তাদের তালিকায় নাম উঠতে বা টাকা পেতে কিছুটা সময় লাগলেও, তা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে। একই সাথে, প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানোর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর একটি ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।