অভিষেকের আরও এক ঘনিষ্ঠ গ্রেফতার, সুকান্ত-কাণ্ডের পর এবার পুলিশের জালে শিক্ষক নেতা মইদুল!

অভিষেকের আরও এক ঘনিষ্ঠ গ্রেফতার, সুকান্ত-কাণ্ডের পর এবার পুলিশের জালে শিক্ষক নেতা মইদুল!

তৃণমূলের অন্দরে এবার যেন ঝড়ের পূর্বাভাস। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের (PA) খোঁজে যখন পুলিশ চারদিকে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক তখনই গ্রেফতার হলেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম। সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশের পর, মঙ্গলবার সকালে ডায়মন্ড হারবারের নেতড়া বাজার থেকে তাঁকে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারির ফলে শাসক শিবিরের একটি নির্দিষ্ট অংশের চারপাশের আইনি পরিধি ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

পুরনো মামলার জের ও গ্রেফতারির কারণ

পুলিশ সূত্রের খবর, মইদুল ইসলামের এই গ্রেফতারি কোনো নতুন ঘটনার জেরে নয়, বরং ২০২২ সালের একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডায়মন্ড হারবারের বোলসিদ্ধি কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেবব্রত ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সেই সময় উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে মইদুলের নাম স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে সাংসদ-ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে পুলিশি তদন্তের হাত থেকে পার পেয়ে গিয়েছিলেন এই শিক্ষক নেতা। দীর্ঘ চার বছর পর পুলিশ নতুন করে সেই মামলার ফাইল খোলায় অবশেষে আইনের জালে জড়ালেন তিনি।

রাজনৈতিক উত্থান ও প্রভাব

বাম আমলের প্রাক্তন সিপিএম সমর্থক মইদুল ইসলাম পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়ে দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক বৃত্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত অনুগামী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে সিইও (CEO) দফতর ঘেরাও—তৃণমূল জমানার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন, তখনও মইদুলকে তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা গিয়েছিল।

গ্রেফতারির ঠিক আগের মুহূর্তেও সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে মইদুল দাবি করেন, পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকেছে। তবে আইনি ব্যবস্থার মুখে দাঁড়িয়েও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি জানান, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথেই থাকবেন।

আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব

এই গ্রেফতারির ঘটনাটি ডায়মন্ড হারবার তথা রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে যখন শীর্ষ নেতার আপ্তসহায়কের খোঁজে পুলিশ হন্যে হয়ে ঘুরছে, অন্যদিকে একের পর এক ঘনিষ্ঠ নেতার গ্রেফতারি দলের অন্দরের সমীকরণকে জটিল করে তুলছে। পুরনো মামলার এই পুনরুজ্জীবন আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *