বিশ্ব বাজারে ৮০ ডলারের নীচে ক্রুড অয়েল, এখনই কি কমছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?

বিশ্ব বাজারে ৮০ ডলারের নীচে ক্রুড অয়েল, এখনই কি কমছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতেই বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও যুদ্ধের আবহে এক সময় যে ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল, তা বর্তমানে এক ধাক্কায় ৮০ ডলারের নীচে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ৭৮.৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত মার্চের পর বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যে এটিই সবচেয়ে বড় পতন।

তেলের দাম কমার মূল কারণ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই আকস্মিক দরপতনের মূলে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের ওপর। ভারতকে বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে তেল কিনতে হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী স্তরে ফিরে যাচ্ছে।

দেশীয় বাজারে প্রভাব ও ধোঁয়াশা

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতের বাজারে এখনই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, যা রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তথ্য অনুযায়ী, এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি এখনও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির বোঝা বহন করছে। পাশাপাশি, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা হ্রাস করায় সরকারি রাজস্বেও বড় ধাক্কা লেগেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও, সরকার ও তেল সংস্থাগুলি প্রথমে তাদের পূর্বের ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা করবে। তবে অপরিশোধিত তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা যদি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তবেই আগামী দিনে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *