তৃণমূলে তীব্র কোন্দল ও কুণাল-সুদীপ তরজা, ভবানীপুর মামলা নিয়ে হাইকোর্টে মমতা!

তৃণমূলে তীব্র কোন্দল ও কুণাল-সুদীপ তরজা, ভবানীপুর মামলা নিয়ে হাইকোর্টে মমতা!

ভোট পরবর্তী বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাহাড়ের উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতাদের ইস্তফা এবং তদন্তকারী সংস্থার তলবে কার্যত দিশেহারা অবস্থা বিরোধী শিবিরের। দলের অন্দরের এই ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে এবং পরিবর্তিত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ও ইস্তফার হিড়িক

দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বেইমান’ এবং ‘বিচিত্র পরচুলো’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। দলের কাছে নতুন গাড়ি কেনার জন্য সুদীপের টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরেও ভাঙন স্পষ্ট। চেয়ারে বসে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে ইস্তফা দিয়েছেন দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যান হরেন্দ্র সিং এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট। অন্যদিকে, দলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের অন্যতম রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ থেকে ফিরেই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে বসায় তৃণমূলের অন্দরের এই রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আদালতের দ্বারস্থ মমতা ও ইডির নজরে অভিষেক

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই তদন্তকারী সংস্থার সাঁড়াশি চাপে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর, মঙ্গলবার ফের ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। দলের এই প্রবল ডামাডোলের মধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎ কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন। জানা গিয়েছে, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে মামলা দায়ের করতেই তাঁর এই অপ্রত্যাশিত হাইকোর্ট সফর।

ভোটের ফল প্রকাশের পর ক্ষমতা হারানো এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর নিচুতলার কর্মীদের আস্থা কমার কারণেই মূলত এই ব্যাপক অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে পড়তে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন কার্শিয়াংয়ে গিয়ে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রের সব প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন এবং উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করছেন, তখন তৃণমূলের এই লাগামহীন কোন্দল, দলবদল এবং আইনি জট তাদের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আগামী দিনে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *