এবার ইডির পর পুলিশি জালে সোনা পাপ্পু, গোলপার্ক অশান্তি কাণ্ডে ২০ জুন পর্যন্ত হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনায় অবশেষে কসবার বিতর্কিত ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নিল কলকাতা পুলিশ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন। সেখান থেকেই আলিপুর আদালতের নির্দেশে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত পাপ্পুকে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ নিজেদের হেফাজতে পেয়েছে। এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অশান্তির নেপথ্যে পাপ্পু বাহিনী
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর দলবলই এলাকায় এসে মূল গন্ডগোল পাকিয়েছিল এবং আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটিয়েছিল। এই ঘটনার পর রবীন্দ্র সরোবর থানায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয় এবং পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও পাপ্পু অধরাই ছিলেন। দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার সময় তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করলেও পুলিশ বা ইডি তাঁর নাগাল পাচ্ছিল না। অবশেষে গত ১৮ মে সস্ত্রীক ইডি দফতরে হাজিরা দিলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগের প্রভাব
সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে শুধু গোলপার্কের অশান্তিই নয়, বরং জমি দখল, ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের শিকড় এতটাই গভীরে যে, এই মামলায় ইতিপূর্বে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কালীঘাট থানার প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহকেও গ্রেফতার হতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশি হেফাজতে পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে দক্ষিণ কলকাতায় সক্রিয় থাকা জমি মাফিয়া ও তোলাবাজি সিন্ডিকেটের ভেতরের বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং প্রভাবশালী যোগসূত্র সামনে আসতে পারে, যা এই অঞ্চলের অপরাধ দমনে বড় প্রভাব ফেলবে।