অবশেষে পুলিশের জালে উত্তর ২৪ পরগনার দাপুটে তৃণমূল নেতা শাহানুর

দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া ভুরিভুরি অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডল। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া পুলিশের এক গোপন অভিযানের পর বুধবার সকালে সাকচুড়া বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাসনাবাদ ও বসিরহাট পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উল্লাস ও লাড্ডু বিলি করতে দেখা যায়। বর্তমানে ধৃত নেতা হাসনাবাদ থানায় রয়েছেন এবং আজই তাঁকে বসিরহাট আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
জমিদার বাড়ি দখল থেকে পাচার চক্রের গুরুতর অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একাধিক বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা, সাধারণ মানুষের ওপর তোলাবাজি এবং সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে গরু পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, টাকির একাধিক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ির সদস্যরা তাঁদের পৈতৃক জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করার বিষয়ে শাহানুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এছাড়া নদী ভরাট করে অবৈধ হোটেল, রিসর্ট ও পার্ক তৈরির মতো পরিবেশবিরোধী কাজের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতার পতন সীমান্ত লাগোয়া বসিরহাট মহকুমার রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই গ্রেপ্তারের পর বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপি এলাকায় তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, এই নেতার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল এবং এই আইনি পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের জনক্ষোভের অবসান ঘটেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক স্তরে খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের পদটি নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হলো। পাশাপাশি, ক্ষমতাসীন দলের জন্য সীমান্ত এলাকায় নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।