এবার কাটমানি বিতর্কে সিপিএম নেতা, চাকরি ও ঘরের নামে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার অভিযোগে তোলপাড় মালদা

তৃণমূলের পর এবার খোদ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে উঠল কাটমানি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার চাঁচল থানার আলিহোন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাস্তিপাড়া এলাকায়। টাকা ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা ইতিমধ্যেই দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশাসনের।
শিক্ষকতার চাকরি ও আবাসন প্রকল্পের নামে প্রতারণা
অভিযোগের তির আলিহোন্ডা এলাকার প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা সিপিআইএমের অঞ্চল সভাপতি আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। সাজ্জাদ আলী নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ২০১৬ সালে কুনুয়া হাই মাদ্রাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষকতার চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নেন আক্তার হোসেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি মেলেনি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী চাঁচল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্য এক ভুক্তভোগী কুরবান আলীর অভিযোগ, আক্তার হোসেন পঞ্চায়েত সদস্য থাকাকালীন সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। যদিও অভিযুক্ত সিপিআইএম নেতা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রভাব ও চাপানউতোর
এতদিন কাটমানি ও দুর্নীতি ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে লাগাতার নিশানা করে আসছিল বামফ্রন্ট। এবার খোদ বাম নেতার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁচল এলাকায় বামেদের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে এবং শাসকদল এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে পাল্টা প্রচারে নামতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।