যোগ দিবসের প্রস্তুতিতে বিতর্কের ঝড়! সরকারি কর্মীদের বাধ্য করার অভিযোগে আদালতে মামলা

যোগ দিবসের প্রস্তুতিতে বিতর্কের ঝড়! সরকারি কর্মীদের বাধ্য করার অভিযোগে আদালতে মামলা

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে যখন সেজে উঠছে কলকাতা, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত মেগা ইভেন্টে যোগ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এই উৎসবের আবহেই তৈরি হয়েছে বড়সড় আইনি জটিলতা। একদিকে ব্যস্ততম রাস্তা বন্ধ রাখা নিয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা— এই জোড়া ইস্যুতে এবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হলো দুটি পৃথক মামলা।

জনভোগান্তি ও বাধ্যতামূলক যোগদানের জোড়া ধাক্কা

যোগ দিবসের মহাপ্রস্তুতির কারণে কলকাতার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন রেড রোড বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সপ্তাহের ব্যস্ত দিনগুলিতে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা বন্ধ থাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। আমজনতার এই চরম হয়রানির দিকে আঙুল তুলে কলকাতা পুলিশের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একটি আইনজীবী সংগঠন। দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে আইনজীবীদের প্রশ্ন, একটি উৎসবের জন্য সাধারণ মানুষের গতিবিধি এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?

অন্যদিকের আইনি লড়াইটি শুরু হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষমহল নবান্নের একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এবার রাজ্যের সমস্ত স্তরের স্থায়ী ও অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য যোগ দিবসে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। গত ১৪ জুন মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের কো-অর্ডিনেশন কমিটি। তাদের দাবি, যোগাভ্যাসে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক না করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক করা হোক। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রস্তুতির জাঁকজমক বনাম আইনি প্যাঁচ

আইনি জট ও বিতর্কের মাঝেই অবশ্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আয়ুষ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। আগামী ২০ জুন গঙ্গাবক্ষে ৫০০টি নৌকায় একযোগে অভিনব যোগাভ্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ২১ জুন মূল অনুষ্ঠানে রেড রোডে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। ফলে গোটা এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিটোল করা হচ্ছে।

২০১৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতির পর থেকে প্রতি বছরই প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করেন। বিগত বছরগুলিতে বিশাখাপত্তনম, শ্রীনগরের ডাল লেক কিংবা রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে মোদীর যোগ দিবস উদযাপনের নজির রয়েছে। ২০২৬ সালে তাঁর গন্তব্য তিলোত্তমা। তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্দীপনা এবং একই সঙ্গে জোড়া মামলার আইনি জটিলতা— সব মিলিয়ে যোগ দিবসের আগেই কলকাতার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দ যে বেশ তপ্ত, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *