বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত, ঋণের বোঝা সামলে বাংলার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে দিল্লিতে জোর তৎপরতা অর্থমন্ত্রীর

রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে পারদ চড়তে শুরু করেছে। আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে খসড়া বাজেট তৈরির চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝেই আকস্মিক দিল্লি সফরে গিয়েছেন তিনি। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠককে কেন্দ্র করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
বাজেটের আগে দিল্লির পরামর্শ ও কৌশলী বৈঠক
সরকারি কোষাগারে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন সরকারের পথ চলা শুরু হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক সংকটের মধ্যেও জনস্বার্থ রক্ষা করে বাজেটে নতুন চমক দেওয়া বর্তমান সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের এই নড়বড়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এবং নীতি আয়োগের শীর্ষ কর্তার কাছ থেকে বিশেষ পরামর্শ নিতে এই জোড়া বৈঠকের আয়োজন। বৈঠকে বাজেটের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত খোলসা না করলেও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বাংলায় দুর্বল রাজনীতি বন্ধ করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ও শিল্পের প্রসারে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শিল্পের প্রসার ও কর্মসংস্থানে বিশেষ নজর
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে বাজেটে বিশেষ চমকের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি ফলতার এক জনকল্যাণ কর্মসূচি থেকেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ২২ জুনের বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একাধিক নতুন কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি এবং শিল্পের বিকাশে বড়সড় ঘোষণা থাকবে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে বাজেটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এখনই সব কৌশল প্রকাশ করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। এই দিল্লি সফর ও শীর্ষ বৈঠকের ফলে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা আদায় করে রাজ্য শেষ পর্যন্ত কতটা জনমোহিনী অথচ বাস্তবসম্মত বাজেট পেশ করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।