তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ‘ভরসা’র এনসিপিআই, প্রতিষ্ঠাতা শিউলির বাড়িতে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে আকস্মিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই। দলটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সাংসদ যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই এনসিপিআই-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি শিউলি কুণ্ডু এবং তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে হাওড়ার সাঁকরাইলের বাণীপুর হাটগাছা গ্রামের বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। সোমবার থেকে ওই বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের ভিড় সামলাতে হাওড়া সিটি পুলিশের তৎপরতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
দল গঠনের নেপথ্য কারণ ও উদ্দেশ্য
এনসিপিআই প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে শিউলি কুণ্ডু জানান, গরিব, অসহায়, প্রবীণ ও নারীদের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক ভাবনা থেকেই ২০২২ সালে এই দলের পথচলা শুরু হয়েছিল। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আদর্শ ও চিন্তাভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং একটি টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডু ও তিনি মিলে প্রথমে এনজিও হিসেবে কাজ শুরু করেন, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। দল গঠনের পর থেকে গরিব মানুষকে রেশন দেওয়া এবং নারীদের বস্ত্র বিতরণের মতো সামাজিক কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন তাঁরা। তবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরপরই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন শিউলি। বর্তমানে তিনি দলের কোনও সক্রিয় পদে নেই এবং তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
তৃণমূলের একাধিক সাংসদ এই নতুন দলে যোগ দেওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে এনসিপিআই-এর গুরুত্ব এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গেছে। বর্তমান নেতৃত্ব বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শিউলি কুণ্ডু এখনই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও, দলের এই আকস্মিক উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। রিলে রেসের লাঠি হস্তান্তরের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ব্যক্তি বড় কথা নয়, দল এবং তার স্বপ্ন সুরক্ষিত থাকাই মূল লক্ষ্য। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশ এই দলকে নিজেদের রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়ায় আগামী দিনে রাজ্যে শাসক শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দল বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আভাস মিলছে।