ঋতব্রত ৫৮ আর কালীঘাট ১৪, বিধানসভায় প্রকাশ্যে তৃণমূলের ফাটল!

ঋতব্রত ৫৮ আর কালীঘাট ১৪, বিধানসভায় প্রকাশ্যে তৃণমূলের ফাটল!

রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের অন্দরের ফাটল সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে চলে এল। আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল ঘাসফুল শিবির। একদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক, অন্যদিকে বিধানসভার অন্য প্রান্তে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসলেন কালীঘাটপন্থী ১৪ জন বিধায়ক। তবে রাজনৈতিক মহলকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়ে ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত শিবিরে প্রথম সারিতে দেখা গেল একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে।

সংসদীয় দলেও ভাঙনের স্পষ্ট রেখা

বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, রুকবানুর রহমানরা। তৃণমূলের এই ভাঙন কেবল বিধানসভাতেই সীমাবদ্ধ নেই, সংসদীয় দলেও এর সুস্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের তালিকায় বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম থাকলেও, তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য কালীঘাট শিবিরের সঙ্গেই রয়েছেন। ঋতব্রত জানিয়েছেন, তাঁদের শিবিরের তিনজন বিধায়ক শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যে সমর্থন আরও বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং তাঁরাই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন।

নেপথ্যের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই নজিরবিহীন বিভাজনের মূল কারণ হলো বিরোধী দলনেতা নির্বাচন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করে স্পিকারকে চিঠি দিলেও, তার ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সই জালের পাল্টা অভিযোগ তুলে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতার পদ নিশ্চিত করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জেরে দল তাঁকে বহিষ্কার করে। শোভনদেব এই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেও কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি, ফলে আইনিভাবে ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা থেকে যাচ্ছেন। এই চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে বিধানসভায় শাসকদলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিরোধী শক্তি কার্যত খণ্ডিত হয়ে পড়ল। দলের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধির উপর শীর্ষ নেতৃত্বের এই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *