কালীঘাটে ফের সিআইডি হানা, এবার নজরে অভিষেকের পিসির বাড়ি!

কলকাতার কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ফের সক্রিয় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোন তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিসি রিনা গায়েন ওরফে নান্টির বাড়িতে অভিযান চালালেন গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।
অভিযানের নেপথ্য কারণ ও অদিতির সূত্র
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন গত ৪ মে ভোট গণনার পর ডিজে বাজানো নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের হয়। সেই উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। ২৯/ডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই বাড়িতে থাকেন রিনা গায়েন এবং তাঁর কন্যা অদিতি গায়েন। অদিতি মূলত অভিষেকের সমাজমাধ্যম (সোশ্যাল মিডিয়া) টিম ও তাঁর নির্বাচনী কর্মসূচির তদারকির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সিআইডি-র এই অভিযানের মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলার সঙ্গে ওই পরিবারের কোনো ডিজিটাল বা কৌশলগত সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এর আগেও বিধানসভার সই জাল কাণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি নোটিস পাঠিয়েছে এবং ভবানী ভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্প্রতি অভিষেকের আপ্তসহায়কের সন্ধানেও কালীঘাটে পুলিশি অভিযান চলেছিল। ফলে এই ধারাবাহিক তদন্তপ্রক্রিয়া রাজ্যের শাসক দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।
এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী এটিকে ‘বিরোধী কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। বিজেপি নেতাদের অতীত মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।