দলবিরোধী কাজের কড়া সাজা, তৃণমূলের পথেই এবার বিদ্রোহীদের ছেঁটে ফেলার ব্লু-প্রিন্ট উদ্ধব শিবিরের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও বড়সড় ভাঙনের কালো মেঘ। শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের নির্দেশ অমান্য করে দলের ছয় সাংসদ এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ফ্রন্ট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর। দলের চিফ হুইপ অনিল দেশাইয়ের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বৈঠকে এই ছয়জন অনুপস্থিত ছিলেন। নয়জন সাংসদের মধ্যে মাত্র তিনজনের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের রণকৌশল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ করতে চলেছে উদ্ধব শিবির।
বিদ্রোহীদের রুখতে শোকজ ও দলত্যাগ বিরোধী আইনের হুঁশিয়ারি
চিফ হুইপের নির্দেশ অমান্য করার অপরাধে অনুপস্থিত ছয় সাংসদকে ইতিমধ্যেই শিবসেনা (ইউবিটি)-র পক্ষ থেকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। দলের প্রবীণ সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই সাংসদরা দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্র করেছেন। দলবিরোধী কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিং বা শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং লোকসভার স্পিকারের কাছে এদের সাংসদ পদ খারিজের আবেদন জানানো হবে।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্রের আসন্ন বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পরেই এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সাংসদ সঞ্জয় বান্দু যাদবের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফ্রন্ট বা গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অনুরূপ একটি পৃথক ফ্রন্ট গড়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা অন্য দলের শরণাপন্ন হন। মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এই বিদ্রোহীরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপ এড়াতে কোনো বড় দলের সাথে মিশে যাবেন, নাকি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। একই সাথে সঞ্জয় রাউত এই রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দেশের বিচারব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, একনাথ শিন্ডের পূর্ববর্তী বিদ্রোহের সময় যদি সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ করত, তবে আজ মহারাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে এই সংকটের মুখোমুখি হতে হতো না। এই নতুন ভাঙন নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনে উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের রাজনৈতিক শক্তিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।