মায়ের ছবি বিকৃত করে এআই-এর ভয়ংকর ফাঁদ, ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে আত্মঘাতী কিশোর!

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে এক কিশোরের রহস্যমৃত্যুর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। আত্মহত্যার ১২ দিন পর পরিবারের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মায়ের ছবি বিকৃত করার কারণেই মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছে ওই স্কুলপড়ুয়া। এই ঘটনা ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কিশোর বয়সের সাইবার বুলিংয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
নেপথ্যের কারণ ও মানসিক অবসাদ
গত ৬ জুন অন্ডাল থানা এলাকায় নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হয় ওই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকেই সে অত্যন্ত চুপচাপ ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। কিশোরের মোবাইল ফোন ঘাঁটতেই এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণ স্পষ্ট হয় পরিবারের কাছে। মৃত কিশোরের মায়ের অভিযোগ, স্কুলেরই দুই সহপাঠী এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর ছবি বিকৃত করে। সেই আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ওই কিশোরকে ব্ল্যাকমেল ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল। এই লাগাতার মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং লজ্জায় কাউকে কিছু জানাতে না পেরেই সে চরম পথ বেছে নেয়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসার পর প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে সাইবার সচেতনতার অভাব নতুন করে প্রকট হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এআই-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির এমন মারাত্মক অপপ্রয়োগ সমাজে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিশোর অপরাধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে অন্ডাল থানায় অভিযুক্ত দুই সহপাঠীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্ডাল পুলিশ মামলাটি সাইবার ক্রাইম বিভাগের হাতে তুলে দিয়েছে। বিকৃত ছবি তৈরি ও ছড়ানোর নেপথ্যে কারা যুক্ত এবং ব্ল্যাকমেলের সত্যতা কতটুকু, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।