রক্ষকই ভক্ষক! কালিয়াগঞ্জে মাদ্রাসার হোস্টেলে নাবালিকা ছাত্রীকে অকথ্য নির্যাতন, শ্রীঘরে প্রধান শিক্ষক

রক্ষকই ভক্ষক! কালিয়াগঞ্জে মাদ্রাসার হোস্টেলে নাবালিকা ছাত্রীকে অকথ্য নির্যাতন, শ্রীঘরে প্রধান শিক্ষক

উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে এক মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল রশিদকে রায়গঞ্জ জেলা আদালত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ এড়াতে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক সমস্ত দিক বিবেচনা করে তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো একটি নিরাপদ স্থানে এমন ঘটনায় সমগ্র এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পরিযায়ী শ্রমিকের সন্তান, সুযোগ নিয়ে পাশবিক অত্যাচার

ভুক্তভোগী নাবালিকাটি পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ার কারণে তাকে গত এক বছর ধরে ওই মাদ্রাসার হোস্টেলে রেখে পড়ানো হচ্ছিল। মেয়েটির বাবা-মা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ইটাহারের বাসিন্দা বৃদ্ধ দাদু। বাবা-মায়ের এই দূরত্বের সুযোগ নিয়ে এবং হোস্টেলে অন্যান্য ছাত্রীদের অনুপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর ওপর দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘ এক বছর ধরে এই অসহ্য যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করার পর, অবশেষে দাদুর কাছে বিষয়টি খুলে বলে ওই নাবালিকা। এরপর গত ১৫ জুন কালিয়াগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার দাদু।

পকসো আইনে মামলা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, ধৃত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে অত্যন্ত কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তাকে খুব শীঘ্রই পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে। বর্তমানে নির্যাতিতা ছাত্রীটি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তত্ত্বাবধানে তার মানসিক সুস্থতার জন্য কাউন্সেলিং চলছে।

এই জঘন্য অপরাধ সমাজের বুকে এক গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা, যারা সন্তানদের উন্নত ভবিষ্যতের আশায় স্কুল বা মাদ্রাসার হোস্টেলে রেখে যান, তাদের মনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রবল অনাস্থা ও ভীতির সৃষ্টি করেছে। একজন শিক্ষকের এমন আচরণ ছাত্র-শিক্ষকের পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করার পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা নিয়ে সমাজকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *