প্যারিসের মঞ্চে ভারতের জয়জয়কার, ১২ বছরের খতিয়ান তুলে ধরে বিশ্বস্ততার বার্তা মোদীর!

বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার আবহে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত আজ কেবল একটি উদীয়মান অর্থনীতি নয়, বরং অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সহযোগী। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সাল প্লেয়েল প্রেক্ষাগৃহে অনাবাসী ভারতীয়দের এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনটাই দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এখন কেবল বাণিজ্যের অঙ্ক নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাসই হয়ে উঠেছে মূল চালিকাশক্তি। এই পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের মজবুত অংশীদারিত্ব আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি মেলা ভিভাটেক ২০২৬-এ ভারতের অভাবনীয় প্রযুক্তিগত উত্থানের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের অর্ধেকই এখন ভারতে হচ্ছে এবং ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে গেছে খোদ ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার থেকে বিমানবন্দরে। ভারতের কাছে কৃত্রিম মেধার (এআই) প্রকৃত অর্থ হলো ‘অল ইনক্লুসিভ’ বা সার্বিক অন্তর্ভুক্তি, যা প্রযুক্তির গণতন্ত্রীকরণকে নিশ্চিত করে। এছাড়া, এ বছর ভারত ও ইউরোপের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আগামী বছর জল ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের যৌথ উপগ্রহ ‘ট্রিশনা’-র উৎক্ষেপণ বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক রূপান্তর ও এক সোনালী যুগের সূচনা
টানা ১২ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতাকে আবেগঘন সুরে ‘পরম সৌভাগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেন মোদী। একসময়ের সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে এই শীর্ষ পদে পৌঁছানোকে তিনি ভারতীয় গণতন্ত্রের অসীম ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। বিগত এক দশকে কেবল কাঠামোগত বা অর্থনৈতিক সংস্কারই হয়নি, বরং এক ব্যাপক সামাজিক রূপান্তর ঘটেছে ভারতে। যার প্রত্যক্ষ সুফল হিসেবে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের যুবসমাজ, নারী ও কৃষকদের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করেই ভারত আজ এক নতুন সোনালী যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে দেশের আর্থ-সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।