মুর্শিদাবাদে জোর ধাক্কা তৃণমূলের, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নাড়ু গোপাল

মুর্শিদাবাদে জোর ধাক্কা তৃণমূলের, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নাড়ু গোপাল

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের ভাঙন ও রাজনৈতিক সংকট আরও চওড়া হতে শুরু করেছে। এবার মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বহরমপুর পুরসভার পুরপ্রধান বা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জেলার দাপুটে নেতা নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায়। এদিন দুপুরে বহরমপুরের মহকুমা শাসকের (SDO) অফিসে গিয়ে তিনি সশরীরে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন। মহকুমা শাসকের অফিস থেকে বেরিয়েই বহরমপুর পুরসভায় পৌঁছে দলীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ইস্তফা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন বিদায়ী পুরপ্রধান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দলের অবস্থা নিয়ে নীরবতা

তৃণমূলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা দলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে চাননি নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে নাকি দলের অবস্থা এখন ভাল না খারাপ— এই সব বিষয়ে তিনি এই মুহূর্তে কোনও কথা বলবেন না। তবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। বিদায়ী চেয়ারম্যানের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুযোগ না দিলে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসার বা সমাজে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ হতো না।

অধীর চৌধুরী ও কংগ্রেসকে তীব্র নিশানা

নিজের রাজনৈতিক জীবন ও অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং কংগ্রেস দলকে তীব্র নিশানা করেন নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় স্রেফ একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কংগ্রেস করলেও সেখানে তিনি যোগ্য সম্মান ও কাজের পরিবেশ পাননি। দল বা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কখনও তাঁকে বড় কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়নি। সেই তুলনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে বড় মঞ্চ ও বহরমপুর পুরসভা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

পুরপ্রধানের পদ ছাড়লেও এখনই নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা অন্য কোনো শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন নাড়ু গোপাল। চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেও সাধারণ মানুষের জন্য বহরমপুর পুরসভার একজন কাউন্সিলর হিসেবে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে আগামী দিনে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে ময়দানে নামবেন, তা এখনই খোলসা না করে পুরো বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় একজন পুরপ্রধানের এই আকস্মিক ইস্তফা স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *