বঙ্গের পুনরাবৃত্তি উত্তরপ্রদেশে, ২৪ বিরোধী সাংসদ দলবদলের অপেক্ষায় বিস্ফোরক দাবি মন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ছোঁয়া এবার উত্তরপ্রদেশেও। দেশের বৃহত্তম এই রাজ্যের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিস্ফোরক দাবিকে ঘিরে জাতীয় রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেসের অন্তত দুই ডজন অর্থাৎ ২৪ জন সাংসদ শিবির বদল করার জন্য একেবারে প্রস্তুত হয়ে আছেন। লোকসভা নির্বাচনের পর মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভাঙনের আবহে এই দাবি উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
নেতৃত্বে অসন্তোষ ও ভাঙনের জল্পনা
উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী তথা সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর বিরোধী শিবিরে এই বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের বহু সাংসদ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভের কারণেই একাধিক সাংসদ বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। এর আগে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যও একই সুরে দাবি করেছিলেন যে, এসপির ২৫ থেকে ২৬ জন সাংসদ দল ছাড়তে চলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই নামক নতুন দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থন করার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশেও এই ধরনের দলবদলের জল্পনা তীব্র হয়েছে।
পাল্টা চাপ ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রভাব
শাসক শিবিরের এই লাগাতার আক্রমণকে অবশ্য স্রেফ মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল বলেই উড়িয়ে দিচ্ছে বিরোধী পক্ষ। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব পাল্টা দাবি করেছেন, বিরোধীদের মধ্যে নয়, বরং বিজেপিরই একাংশের বিধায়ক এবং নেতারা ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট রয়েছেন। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যেই শাসক জোট এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবি করছে বলে বিরোধীদের মত। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি এই দাবির সত্যতা থাকে এবং সত্যিই কোনো সাংসদ দলবদল করেন, তবে তা উত্তরপ্রদেশে বিরোধী জোটের ভিত দুর্বল করে দেবে। আর যদি এটি স্রেফ রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হয়, তাহলেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মেরুকরণ আরও বৃদ্ধি পাবে।