পাকিস্তানে গুরুদুয়ারায় শিখ দম্পতিকে নির্মমভাবে হত্যা, তীব্র নিন্দা ভারতের

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদান জেলায় একটি গুরুদুয়ারার ভেতরে এক প্রবীণ শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ৭০ বছর বয়সি জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা ওয়ান্টি। তাঁরা পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই গুরুদুয়ারার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজন শের শাহ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
নিরাপত্তা গাফিলতি ও তদন্তের অগ্রগতি
তদন্তে নেমে পাকিস্তানের পুলিশ ও কাউন্টার-টেররিজম ডিপার্টমেন্টের যৌথ তদন্তকারী দল (জেআইটি) এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট। তবে ঘটনার সময় গুরুদুয়ারার সুরক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ প্রহরী অনুপস্থিত ছিলেন এবং ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারটি অচল ছিল, যা চরম নিরাপত্তা গাফিলতিকে নির্দেশ করে।
সীমান্তপারে তীব্র ক্ষোভ ও কূটনৈতিক বার্তা
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অকাল তখতের প্রধান পুরোহিত জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সুরক্ষার চরম ব্যর্থতা তুলে ধরেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৫০ সালের ঐতিহাসিক নেহরু-লিয়াকত চুক্তি অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার যে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ছিল, পাকিস্তান তা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।