রাধা, কৃষ্ণের প্রেমের গভীর দর্শন এবার বড় পর্দায়, এখনও ভালোবাসার সংজ্ঞা খুঁজছেন ইমতিয়াজ আলি

বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক ইমতিয়াজ আলি মানেই সেলুলয়েডে সম্পর্কের এক জটিল ও আবেগঘন সমীকরণ। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, দর্শক ও সমালোচকরা তাঁকে প্রেমের ছবির কারিগর হিসেবে দেখলেও, তিনি নিজে কখনো সচেতনভাবে ‘লাভ স্টোরি’ বা প্রেমের গল্প বানাতে বসেন না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সিনেমা বানানোর দর্শন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এমনই কিছু চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন এই পরিচালক।
সিনেমার মূলে ভালোবাসা ও রাধা-কৃষ্ণের গল্প
ইমতিয়াজ আলির মতে, কোনো গল্পই ভালোবাসা ছাড়া তৈরি করা সম্ভব নয়। সেটি দেশপ্রেম হতে পারে, আবার কাউকে হারানোর যন্ত্রণাও হতে পারে। গল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাঁর সিনেমায় চলে আসে। এই ভাবনার সূত্র ধরেই তিনি ভবিষ্যতে ভারতীয় পুরাণের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, রাধা-কৃষ্ণের চিরন্তন প্রেমকে বড় পর্দায় তুলে ধরার এক মহাপরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে এটিকে চিরাচরিত কোনো প্রেমের গল্প হিসেবে নয়, বরং এর ভেতরের গভীর দর্শন ও বহুস্তরীয় অর্থকে দর্শকদের সামনে আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
বক্স অফিসের সমীকরণ ও আগামী দিনের প্রভাব
সিনেমার গল্প নিয়ে এত সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনা করলেও ইমতিয়াজ আলির সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ বক্স অফিসে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরুদ্দিন শাহ, শর্বরী ও বেদাং রায়নার মতো তারকাখচিত এই ছবিটি সমালোচকদের বিপুল প্রশংসা পেলেও ব্যবসার নিরিখে বেশ পিছিয়ে। মুক্তির প্রথম পাঁচ দিনে ছবিটির বক্স অফিস সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮.৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমতিয়াজ আলির ছবি বরাবরই একটু ভিন্ন ঘরানার এবং মন্থর গতির হয়, যা সব শ্রেণির দর্শককে তাৎক্ষণিকভাবে আকর্ষণ করতে পারে না। তবে রাধা-কৃষ্ণের মতো একটি মহাকাব্যিক ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে তিনি যখন কাজ করবেন, তখন তা ভারতীয় সিনেমা জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রূপালি পর্দায় পুরাণের এই আধুনিক ও দার্শনিক উপস্থাপন আগামী দিনে দর্শকদের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।