নিট কেলেঙ্কারিতে একের পর এক মৃত্যু, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও ১ কোটি ক্ষতিপূরণের দাবি!

দেশজুড়ে নিট (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগাতার অনিয়মের জেরে চরম মাসুল দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১১ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা প্রকট হয়েছে। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে মৃতদের পরিবারপিছু ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাইল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
মানসিক চাপে পরীক্ষার্থীরা ও ক্ষতিপূরণের দাবি
দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রধানমন্ত্রীকে একটি খোলা চিঠি লিখে এই সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের জেরে সন্তানদের হারিয়ে চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবারগুলি। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ নিয়েছিলেন। ব্যবস্থার ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন চুরমার হওয়ার পাশাপাশি বাতিল পরীক্ষার পর পুনরায় নতুন করে পরীক্ষার ঘোষণায় পরীক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত পদত্যাগের পাশাপাশি দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সিজেপি, যাতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফেরানো সম্ভব হয়।
প্রশ্নফাঁসের প্রভাব ও ধারাবাহিক আত্মহনন
গত ৩ মে আয়োজিত প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রায় ২২.৭ লক্ষ পড়ুয়া অংশ নিলেও দুর্নীতির জোরালো অভিযোগে তা বাতিল করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। আগামী ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে। একদিকে যখন সিবিআই এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রবল চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পরীক্ষার্থীরা। গত ৪৮ ঘণ্টাতেই উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক মেধাবী তরুণী এবং গুজরাতের আমদাবাদে ১৭ বছরের এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রশ্নফাঁসের জেরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর অবসাদ ও প্রাণঘাতী প্রবণতার জন্ম দিয়েছে, দেশজুড়ে চলা এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল তারই চূড়ান্ত প্রমাণ।