স্বাস্থ্য ও পর্যটনে জোড়া চমক, বাংলায় শুরু ৩টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও ডলফিন পার্কের কাজ!

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের প্রসারে একযোগে বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান—এই তিন জেলায় শুরু হতে চলেছে নতুন তিনটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রক্রিয়া। একই সাথে রাজ্যের ইকো-টুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে চাঙ্গা করতে হুগলি নদী ঘেঁষে দুটি ডলফিন পার্ক তৈরিরও মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই জোড়া উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে বিপুল কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ ও ৩০০ নতুন আসন
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেলার পরপরই পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড (ডাব্লিউবিএমএসসিএল) তিনটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। এই মর্মে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির স্বাস্থ্য আধিকারিকদের জমি ও বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি হাসপাতালে কমপক্ষে ৪২০টি বেড থাকবে এবং প্রতি বছর গড়ে ৮০ শতাংশ বেড যাতে ভরতি থাকে, সেই লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই তিনটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে রাজ্যের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমবিবিএস কোর্সের জন্য আরও ৩০০টি আসন যুক্ত হবে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের জন্য এক বিরাট সুযোগ। নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে ১০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিকল্প জমিতে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং এবং হস্টেল তৈরি করা যাবে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই জমি চিহ্নিতকরণের কাজে নেমে পড়েছে। প্রান্তিক জেলাগুলিতে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল কারণ।
ইকো-টুরিজমের প্রসারে গঙ্গাবক্ষে ডলফিন পার্ক
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রেও এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসারে কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে হুগলি নদী বরাবর দুটি ডলফিন পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই ডলফিন পার্কগুলির মধ্যে একটি তৈরি করা হবে কাঁথিতে, অন্যটির স্থান নির্বাচন এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া প্রকল্পের ফলে একদিকে যেমন জেলা স্তরের মানুষ ঘরের কাছেই উন্নতমানের ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন, অন্যদিকে ডলফিন পার্কের হাত ধরে রাজ্যে পর্যটকদের আগমন বাড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।