২৭ লক্ষ নামের ভবিষ্যৎ কী! অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের সময়সীমা বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হাইকোর্ট

রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নামের আপিল নিষ্পত্তির জন্য অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শুক্রবার এক মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এই আবেদনের কথা প্রকাশ্যে আনেন। ট্রাইব্যুনালে বিপুল সংখ্যক আবেদন বিবেচনাধীন থাকায় আইনি জট কাটাতে এই সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে।
বিপুল আবেদনের চাপ ও বর্তমান সংকট
গত বছরের নভেম্বরে রাজ্যে শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। সেই সময় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন ছিল। পরবর্তীতে জুডিশিয়াল অফিসারদের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে যায়। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন জানান। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে পাহাড়প্রমাণ আবেদন জমা পড়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব মামলার নিষ্পত্তি করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করতে হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া মুর্শিদাবাদের এক ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ আইনজীবীর মামলার শুনানিতেই এদিন বিষয়টি সামনে আসে। গত ২৭ মার্চ থেকে তাঁর আবেদন ট্রাইব্যুনালে পড়ে থাকায় তিনি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই প্রবীণ আইনজীবীর মামলার নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। তবে হাইকোর্টের আবেদন মেনে ট্রাইব্যুনালের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলে, লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি সুযোগ পাবেন এবং প্রশাসনিক স্তরেও নির্ভুলভাবে যাচাই পর্ব সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। দ্রুত নিষ্পত্তির চাপে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যাতে প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই দিক থেকেও এই সময়সীমা বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।