হিটলার ও চেঙ্গিস খানের সঙ্গে তুলনাতেই আহ্লাদিত ডোনাল্ড ট্রাম্প!

ইরান-আমেরিকা সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরের আবহে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর শাসক অ্যাডলফ হিটলার, চেঙ্গিস খান, জোসেফ স্তালিন এবং মাও সেতুংয়ের মতো স্বৈরশাসকদের সঙ্গে নিজের তুলনা টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। এক বিতর্কিত নথির সূত্র ধরে ট্রাম্পের এই আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ও ট্রাম্পের উল্লাস
সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে রাষ্ট্রনেতাদের সামনে নিজেকে ‘বস’ বলে দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেভ কিং নামের এক ব্যক্তির লেখা দুই পাতার একটি নথি শেয়ার করেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, হিটলার বা চেঙ্গিসের মতোই ট্রাম্পও একজন ভয়ংকর নেতা, তবে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তাঁদের চেয়েও অনেক বেশি। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডেভ কিং নিজে তাঁকে এই নথি উপহার দিয়েছেন। এই তুলনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইতিহাসবিদ ডেভ কিংয়ের কথাগুলো আমার ভালোই লেগেছে।”
ইতিহাসবিদের তকমা ও অতিরঞ্জিত দাবি
ট্রাম্প যাঁকে ‘ইতিহাসবিদ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, সেই ডেভ কিং আসলে কোনো স্বীকৃত ইতিহাসবিদ নন, এমনকি তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারীও নন। তিনি মূলত স্কটল্যান্ড থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসা সত্তর বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী। ট্রাম্পের এমন বিভ্রান্তিকর দাবি অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয় করেছিলেন, যা মেলোনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষও তিনি থামিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন, যা নয়াদিল্লি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ ও কূটনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আচরণ মূলত তাঁর ‘স্ট্রংম্যান’ বা কঠোর শাসক ভাবমূর্তি প্রদর্শনের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরশাসকদের শক্তির সঙ্গে নিজের শক্তির তুলনাকে তিনি নেতিবাচকভাবে না দেখে নিজের ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে একজন গণতান্ত্রিক দেশের শীর্ষ নেতার মুখে হিটলার-স্তালিনের মতো রক্তপিপাসু একনায়কদের প্রশংসা বিশ্ব কূটনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা শান্তি প্রক্রিয়ার এই সংবেদনশীল সময়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অস্বস্তি বাড়াবে এবং বিরোধীদের সমালোচনার নতুন অস্ত্র জোগাবে।