স্বামীর বিরুদ্ধে হিংসার মামলা হতেই বোলপুরের পুরপ্রধানের ইস্তফা, একই পথে রানাঘাটও!

স্বামীর বিরুদ্ধে হিংসার মামলা হতেই বোলপুরের পুরপ্রধানের ইস্তফা, একই পথে রানাঘাটও!

ভোট পরবর্তী হিংসার মামলার জেরে এবার বড়সড় রদবদল ঘটল বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে। স্বামীর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দায়ের হতেই বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পর্ণা ঘোষ। শুক্রবার বোলপুরের মহকুমা শাসক অনিমেষ কান্তি মান্নার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও ইস্তফাপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আইনি জটিলতা এবং দলীয় চাপ এড়াতেই এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত।

রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ও বিরোধীদের অভিযোগ

২০২০ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান সুশান্ত ভকতকে সরিয়ে পুরপ্রশাসক মণ্ডলীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পর্ণা ঘোষ। পরবর্তীতে নির্বাচনে জিতে তিনি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হন। পর্ণা ঘোষের স্বামী সুদীপ্ত ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক, জেলা কোর কমিটির সদস্য এবং বোলপুর পুরসভার পদস্থ আধিকারিক। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, স্ত্রীর পদের আড়ালে পুরসভার মূল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদীপ্ত ঘোষের প্রভাব ছিল অপরিসীম। স্বামীর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা হওয়ার পরপরই পর্ণা ঘোষের এই পদত্যাগ সেই অভিযোগের আগুনে ঘি ঢেলেছে। জানা গেছে, আগামী সোমবার তিনি কাউন্সিলর পদ থেকেও ইস্তফা দিতে পারেন।

প্রশাসনিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

পর্ণা ঘোষের এই আচমকা পদত্যাগে বোলপুর পুরসভার প্রশাসনিক কাজে সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমের ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এই ঘটনার পর আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে বোলপুরের পাশাপাশি নদিয়ার রানাঘাট পুরসভাতেও তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমার সমস্যা নিয়ে নাগরিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে আচমকা পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণবঙ্গের দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় পরপর এই পদত্যাগের ঘটনা রাজ্যের শাসক দলের স্থানীয় স্তরের পুরপ্রশাসনে বড় ধরনের ধাক্কা দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *