মার্কিন অবরোধ উঠলেও ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান, তবে কি ভেস্তে গেল বহু প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি?

মার্কিন অবরোধ উঠলেও ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান, তবে কি ভেস্তে গেল বহু প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি?

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও টেকসই শান্তির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বড়সড় ধাক্কা খেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নির্দেশে তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নৌ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নিলেও, শুক্রবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার শান্তি চুক্তি বজায় থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উত্তেজনার নেপথ্যে ইজরায়েল-লেবানন সংঘাত

এই আকস্মিক পরিস্থিতি তৈরির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইজরায়েলের আগ্রাসী ভূমিকা। গত বুধবার ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের গ্যারান্টিসহ সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও লেবাননে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আভিভ। দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতে ইজরায়েলি বাহিনীর অবিরাম বোমাবর্ষণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লেবানন ইস্যুতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ট্রাম্পের আশঙ্কা, ইরানের পরমাণু শক্তির সামনে ইজরায়েলের নিরাপত্তা অত্যন্ত ভঙ্গুর, আর সেই কারণেই তিনি সুর নরম করে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু ইজরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়ায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পথ বেছে নিল ইরান।

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন পথ বন্ধ হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে, মার্কিন প্রশাসনের সদিচ্ছা সত্ত্বেও ইজরায়েলের অনমনীয় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে। এর ফলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টাও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ল, যা সমগ্র অঞ্চলটিকে আরও একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *