পাহাড়ের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ধস, জিটিএ চিফ অনীত থাপার পর ডজনখানেক সভাসদের পদত্যাগ

দার্জিলিং, ২০ জুন ২০২৬: রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-এর প্রশাসনিক কাঠামোতে এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় মোড় এসেছে। জিটিএ-এর চিফ এগজিকিউティブ পদ থেকে হেভিওয়েট নেতা অনীত থাপার আকস্মিক পদত্যাগের ঠিক দু’দিনের মাথায় তাঁর দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাতেও এক বিরাট ধস নেমেছে। কার্শিয়াঙে দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল বৈঠকের মাঝেই শুক্রবার দলের সমস্ত পদ ও সভাসদ পদ থেকে একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন ১২ জন জিটিএ সভাসদ। একই পথ অনুসরণ করে ইস্তফা দিয়েছেন জিটিএ-এর ডেপুটি চিফ এগজিকিউティブ সঞ্চবির সুব্বা এবং কার্সিয়াং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনু ছেত্রীও। এই গণপদত্যাগের ফলে পাহাড়ের রাজনীতিতে অনীত থাপার একাধিপত্য এখন চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ক্ষমতা বদলের ধাক্কা ও গণপদত্যাগের নেপথ্য কারণ পাহাড়ের এই আকস্মিক রাজনৈতিক রদবদলের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক সমস্যা এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। ২০২২ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনীত থাপার দল ক্ষমতা দখল করলেও, গত চার বছরে পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জিটিএ আশানুরূপ আর্থিক সাহায্য পায়নি বলে অভিযোগ। ফলে পাহাড়ের মানুষের আশা ও প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পাহাড়ের জনগণ বিপুল জনরায়ের মাধ্যমে বিজেপিকে নির্বাচিত করায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা জিটিএ-এর পরিবর্তে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চাইছে। তাছাড়া, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই জিটিএকে এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হয়। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাহাড় সফরে সরকারি কর্মসূচিতে জিটিএ প্রধান বা কোনো আধিকারিককে আমন্ত্রণ না জানানোই এই পদত্যাগের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
পাহাড়ের রাজনীতিতে দূরগামী প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ অনীত থাপার এই সুকৌশলী পদত্যাগ এবং দলের সভাসদদের ইস্তফা পাহাড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জিটিএ প্রধান তাঁর পদত্যাগের মাধ্যমে পাহাড়ের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের পুরো দায়ভার ও রাজনৈতিক বল এখন সরাসরি বিজেপির কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশক পর ২০২৩ সালে পাহাড়ে যে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ফিরেছিল এবং যার সিংহভাগ অনীত থাপার দলের দখলে ছিল, তা এখন বড়সড় ভাঙনের সম্মুখীন। স্থানীয় নেতাদের একাংশ মনে করছেন যে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার বা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ ব্যবস্থার হাত ধরেই এবার পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অনীত থাপার এই সিদ্ধান্ত কার্যত পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ পুনর্নির্ধারণের পথ প্রশস্ত করল, যার ফলে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সংকট মেটাতে নতুন শাসক দল এখন কী ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।