সীমান্তে ভারতীয় পুশ-ইনের প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা, পুড়ল শাহ ও শুভেন্দুর কুশপুতুল

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে সাধারণ মানুষকে সীমান্তে পুশ-ইন বা ঠেলে পাঠানোর ভারতীয় প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’। শুক্রবার রাতে সংগঠনটি ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকার মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে শুরু হয়ে গুলশান-১ চত্বরে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কুশপুতুল দাহ করেন। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই দলটির সমাবেশ থেকে ভারতের তথাকথিত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সীমান্তে চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
বিগত মাসখানেক ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকাগুলোতে এই পুশ-ইন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো বৈধ বা উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়াই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী অনেক মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। বহু সীমান্ত পয়েন্টে ভারতের এই প্রচেষ্টাকে রুখে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত রেখায় বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে দিনের পর দিন মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে রয়েছেন, যা সীমান্ত জুড়ে তৈরি করেছে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি।
কূটনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই পুশ-ইন বিতর্ক এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় পৌঁছালেও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই সংকটের মুখোমুখি হলেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুতে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে সুর চড়াচ্ছে। চাপের মুখে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের কাছে এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে এবং জোরপূর্বক পুশ-ইন কোনো বৈধ প্রক্রিয়া হতে পারে না।
অন্যদিকে ভারত সরকারের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে বছরের পর বছর ধরে বসবাসরত চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকার করেছেন। তাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকার কাছে নথিপত্র পাঠানো হলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। আর এই কারণেই তারা এই সমস্ত মানুষদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।