হাহাকার পশ্চিম ভারতে, মুম্বই-গোয়ায় আর মাত্র এক মাসের পানীয় জল মজুত!

হাহাকার পশ্চিম ভারতে, মুম্বই-গোয়ায় আর মাত্র এক মাসের পানীয় জল মজুত!

এল নিনোর থাবায় তীব্র দাবদাহের পর এবার বড়সড় জলসঙ্কটের মুখে পড়েছে পশ্চিম ভারত। বর্ষার ঘাটতি এবং দেরিতে বর্ষা প্রবেশের কারণে দেশের বাণিজ্যনগরী মুম্বই এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র গোয়ায় পানীয় জলের হাহাকার তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, মুম্বই ও গোয়ায় বর্তমান মজুত জল দিয়ে বড়জোর আর এক মাস থেকে ৪০ দিন চলা সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তলানিতে মুম্বইয়ের হ্রদ, গোয়ার বাঁধগুলিতেও তীব্র জলসঙ্কট

মুম্বই শহরের দৈনিক পানীয় জলের চাহিদা মেটানোর জন্য মূলত সাতটি হ্রদের ওপর নির্ভর করতে হয়। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)-র হাইড্রোলিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তানসা, ভাতসা, বৈতরণার মতো প্রধান জলাশয়গুলিতে এখন মোট জলের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯.৩৩ শতাংশে, যা গত দুই বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। বর্তমানে হ্রদগুলিতে মোট ১,৪৪,৯১৮ মিলিয়ন লিটার জল অবশিষ্ট রয়েছে, অথচ মেগাসিটি মুম্বইয়ের দৈনিক চাহিদাই প্রায় ৩,৯৫০ মিলিয়ন লিটার। ফলে এই মজুত জল দিয়ে বড়জোর ৪০ দিন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।

অন্যদিকে, একই সংকটের মুখোমুখি গোয়া। রাজ্যের জল সরবরাহ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গোয়ায় জল সরবরাহের প্রধান উৎস সেলাউলি বাঁধে জলের স্তর নেমে এসেছে মাত্র ২৭ শতাংশে। উত্তর গোয়ার আঞ্জুনেম বাঁধে জল রয়েছে মাত্র ৯.৯ শতাংশ এবং মৈসাল বাঁধে মাত্র ১৯ শতাংশ। তবে কানাকোনার চপোলি ও আমথানে জলাশয়ে পরিস্থিতি এখনও কিছুটা স্থিতিশীল। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী এক মাসের মতো পর্যাপ্ত জল থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীঘ্রই জলের ব্যবহারে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে।

উদ্বেগের কারণ ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব

এই তীব্র জলসঙ্কটের মূল কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এল নিনোর কারণে বর্ষার বিলম্ব। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে প্রাক-বর্ষা মরশুমেই শুকিয়ে গেছে প্রধান প্রধান উৎসগুলো।

এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী দিনগুলিতে মুম্বইয়ের আবাসন, হাসপাতাল, হোটেল ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হবে। গোয়ার মতো পর্যটনপ্রধান রাজ্যে জলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিলে ব্যাহত হতে পারে পর্যটন শিল্পও। আবহাওয়া দফতর আগামী সপ্তাহের শেষে গোয়ায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও, আপাতত বৃষ্টির দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই পশ্চিম ভারতের এই দুই রাজ্যের। খরা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রশাসনকে জলের ব্যবহারে আরও বড় কাটছাঁট করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *