বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর মেগা সফর, আজই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পিএম কিষানের টাকা!

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের উদ্দেশ্যে দু’দিনের এক জোড়া কর্মসূচিতে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার এই দ্বিতীয় সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ২০ ও ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু কলকাতা এবং হুগলি জেলা। এই সফরের মূল কারণ কেবল সাংস্কৃতিক উদযাপন নয়, বরং বাংলার মাটি থেকে দেশব্যাপী একাধিক মেগা প্রকল্পের সূচনা করা এবং পরিকাঠামো ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা।
তারকেশ্বর থেকে দেশজুড়ে কৃষকদের উপহার
হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ৯.৪৪ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘পিএম কিষান যোজনা’-র ২৩তম কিস্তির অর্থ সরাসরি প্রদান করবেন। এছাড়া এখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, ডিজিটাল কৃষি মিশনের অধীনে ‘এগ্রি-স্ট্যাক’, প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক জাতীয় মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনার মতো একাধিক যুগান্তকারী কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সূচনা হবে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত তারকেশ্বরকে এই কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ সম্মান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পগুলির ফলে রাজ্যের পাশাপাশি সারা দেশের কৃষকরা সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
উন্নয়নের জোয়ারে রেল ও পরিকাঠামো
কৃষিক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা থাকছে এই সফরে। ৫৯০ কোটি টাকার রেলওয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি হাওড়ার সাঁকরাইল থেকে সাঁতরাগাছি লিঙ্ক লাইন প্রজেক্টের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও হাওড়ায় রেলের একটি ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার অধীনে ৪৯টি গ্রামীণ রাস্তার উদ্বোধন করা হবে। ২১ জুন কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে এই একগুচ্ছ প্রকল্পের সূচনা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং সার্বিক কর্মসংস্থানে এক সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।