রোহিত ও কোহলির ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বাড়ছে চরম ধোঁয়াশা

রোহিত ও কোহলির ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বাড়ছে চরম ধোঁয়াশা

ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত প্রশ্নটি এখন কোটি কোটি ভক্তের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে— ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে দেখা যাবে? টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ভারতের এই দুই অভিজ্ঞ মহাতারকার মূল লক্ষ্য এখন আফ্রিকার মাটিতে হতে চলা আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় সেই টুর্নামেন্টে এই দুই কিংবদন্তি বোর্ডের পরিকল্পনায় কতটা জুড়ে আছেন, তা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এখনও কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। উল্টো বোর্ডের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ক্রিকেট মহলে জল্পনা ও অনিশ্চয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বোর্ডের ‘কৌশলগত’ নীরবতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিসিসিআই সূত্র মারফত জানা গেছে, রোহিত ও কোহলির ভবিষ্যৎ এবং দলের রূপরেখা নিয়ে নির্বাচক, কোচিং স্টাফ, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে এই আলোচনাকে সম্পূর্ণ “কৌশলগত” বলে উল্লেখ করেছে বোর্ড। কৌশলগত কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি নয় তারা। বোর্ডের এই রহস্যময় নীরবতাই মূলত জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। নির্বাচকরা কি তরুণদের ওপর ভরসা রেখে নতুন দল গড়ার কথা ভাবছেন, নাকি অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রাখছেন— সেই ধোঁয়াশা কাটেনি।

ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের কঠিন সমীকরণ

ক্রিকট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার বর্তমান পরিস্থিতি এক নয়। প্রাক্তন নির্বাচক সাবা করিমের মতে, বিরাট কোহলির অবস্থান তুলনামূলকভাবে অনেকটাই শক্ত। কোহলির চমৎকার ফিটনেস, আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং রানের ক্ষুধা নির্বাচকদের এখনও আশ্বস্ত রাখছে। ফলে ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় কোহলিকে নিয়ে বোর্ড অনেকটাই ইতিবাচক।

বিপরীতে, ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মার পথটি কিছুটা ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বয়স, ফিটনেস এবং ফর্মের ধারাবাহিকতা নিয়ে রোহিতকে কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী কয়েক মাসে রোহিতের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতাই নির্বাচকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। বিশ্বকাপ দলে জায়গা ধরে রাখতে হলে তাঁকে আরও কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।

অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও অবশ্য দুই সিনিয়রের পাশে দাঁড়াচ্ছেন যুবরাজ সিংয়ের মতো প্রাক্তন তারকারা। যুবরাজের মতে, বিশ্বকাপ জেতার মতো বড় মঞ্চে কেবল তরুণ রক্তের ওপর নির্ভর করলেই চলে না, সেখানে রোহিত ও কোহলির মতো অভিজ্ঞ ম্যাচজয়ীদের উপস্থিতি দলের মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

এদিকে বিরাট কোহলি নিজেও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলা বা না খেলা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে দলের জন্য তিনি কতটা অবদান রাখতে পারছেন তার ওপর। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের প্রয়োজনই তাঁর কাছে শেষ কথা। সব মিলিয়ে, বিসিসিআই আপাতত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে না আোনায় রোহিত-কোহলির বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার আবরণে ঢাকা পড়ে রইল। আগামী দিনে এই বিষয়ে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের ট্রানজিশন পিরিয়ড বা পরিবর্তনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *