এপার থেকে পুশব্যাক, ওপারে ঘাড়ধাক্কা! মালদহের কাঁটাতারহীন সীমান্তে চরম উত্তেজনা

এপার থেকে পুশব্যাক, ওপারে ঘাড়ধাক্কা! মালদহের কাঁটাতারহীন সীমান্তে চরম উত্তেজনা

রাজ্যে নতুন সরকারের অনুপ্রবেশকারী খেদাও অভিযানের জেরে মালদহের বৈষ্ণবনগরের সুখদেবপুর সীমান্তে তৈরি হল চরম উত্তেজনা। শনিবার ভোররাতে পুশব্যাকের শিকার হওয়া প্রায় হাজারখানেক বাংলাদেশি নাগরিককে ওপার থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি ফিরিয়ে দিলে তারা ফের ভারতীয় সীমান্তে জড়ো হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই বিশাল জমায়েত বিএসএফের ওপর হামলার চেষ্টা করলে কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পুশব্যাক ঘিরে জমায়েত ও বিএসএফের কড়া পদক্ষেপ

জানা গিয়েছে, সুখদেবপুর সীমান্তের প্রায় ১২০০ মিটার এলাকা এখনও কাঁটাতারবিহীন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই অংশের জমিজট কাটিয়ে কাঁটাতার দেওয়ার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশব্যাকের কাজ শুরু করেছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই শনিবার ভোরে একদল অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর সময় বিজিবি তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ঢুকতে বাধা দেয়। ফলে দুই দেশের সীমান্তের মাঝে আটকে পড়া প্রায় হাজারখানেক মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং বিএসএফকে লক্ষ্য করে হামলার উপক্রম করে। যদিও বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কড়া পাহারায় বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সীমান্তে এখনও জমায়েত রয়েছে এবং হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই উত্তেজনার মূল কারণ হলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আইনি প্রক্রিয়ায় বিতাড়ন এবং অন্যদিকে নিজ দেশের নাগরিকদের গ্রহণে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট অনীহা। মালদা দক্ষিণের সাংসদ খগেন মুর্মু ও স্থানীয় বিধায়ক রাজু কর্মকার এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস রুখতে বদ্ধপরিকর হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের নাগরিকদের গ্রহণ না করে বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে। এই কাঁটাতারহীন সীমান্ত দিয়ে অতীতেও গন্ডগোল পাকানো এবং স্থানীয় যুবকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই পুশব্যাক নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অচলাবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *