নিয়ম ভাঙলেই বড় অঙ্কের জরিমানা, রেলের কড়া পদক্ষেপে কপালে চিন্তার ভাঁজ

ভারতীয় রেলে যাতায়াতের সময় যারা নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখাতেন, তাদের জন্য এবার অত্যন্ত কঠিন দিন আসতে চলেছে। ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ, অনধিকার প্রবেশ, ধূমপান কিংবা মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো ঘটনা রুখতে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার অঙ্ক এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা বাড়াল ভারতীয় রেল। সদ্য কার্যকর হওয়া ‘জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ এই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রেল মন্ত্রক ইতিমধ্যে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য রেল পরিষেবাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিরাপদ এবং যাত্রীবান্ধব করে তোলা।
কোন অপরাধে কত জরিমানা
নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে টিকিট ছাড়া বা অবৈধ টিকিটে ভ্রমণ করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অন্যের নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করে যাত্রা করলে টিকিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। রেল প্রাঙ্গণ বা ট্রেনে ধূমপান করলে দিতে হবে ২ হাজার টাকা। যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশ বা ট্রেসপাসিংয়ের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কড়াকড়ি করা হয়েছে মহিলা কোচ বা সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে, যেখানে অনধিকার প্রবেশকারী পুরুষ যাত্রীর জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রেনে বা স্টেশনে মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, থুতু ফেলা বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। এই একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানা বেড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে, এমনকি কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। অনুমতিহীন হকারি বা ভিক্ষাবৃত্তির জন্য জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এছাড়া, রেলওয়ের সাধারণ নিয়ম বা নির্দেশ অমান্য করলে প্রথমবার ২ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয়বার একই কাজ করলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। তবে সবচেয়ে কড়া শাস্তি মিলবে আপত্তিকর বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে, যার ন্যূনতম জরিমানার অঙ্ক ১০ হাজার টাকা।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়া বা রাজস্ব বাড়ানো এই পদক্ষেপের লক্ষ্য নয়। মূলত যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি করা এবং স্টেশন ও ট্রেনের ভেতরের বিশৃঙ্খলা কমাতেই এই আইনি সংশোধন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরিমানার অঙ্ক একলাফে এতটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে মহিলা কোচে পুরুষদের অনুপ্রবেশ এবং বিনা টিকিটের যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এর ফলে স্টেশন চত্বর ও ট্রেনের পরিবেশ আরও সুরক্ষিত, পরিচ্ছন্ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শিয়ালদহ বিভাগসহ বিভিন্ন জোনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ এবং রেলকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।