ইরান চুক্তির শর্ত প্রকাশে বিলম্বের নেপথ্যে পাকিস্তান, ওয়াশিংটনের তোপে ইসলামাবাদের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির শর্তাবলী প্রকাশে বিলম্বের জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। গত ১৫ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই শান্তিচুক্তির ঘোষণা করলেও বিস্তারিত সমঝোতাপত্রটি প্রকাশ করা হয় তার দু’দিন পর। এই বিলম্বের পেছনে মূল কারণ হিসেবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চরম পতনকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক পডকাস্টে পাকিস্তানের সাংবিধানিক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করায় বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের অবস্থান ফের বড়সড় ধাক্কা খেল।
বিলম্বের কারণ ও মার্কিন ক্ষোভ
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সমঝোতা চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশে দেরি হওয়ার মূল দায় পাকিস্তান ও কাতারের দুর্বল সংবাদমাধ্যম ব্যবস্থার। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন সংবিধানে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার যে অটুট সুরক্ষা রয়েছে, পাকিস্তানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৩ নম্বরে থাকা পাকিস্তানের এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তির তথ্য সময়মতো জনসমক্ষে আনার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তির মূল শর্ত ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
মধ্যস্থতাকারীদের এই অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা সত্ত্বেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪টি শর্তের এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে— ইরান ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত অংশে যুদ্ধাবস্থা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী থেকে আমেরিকার অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত হওয়া ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া। এর বিনিময়ে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাঝেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের প্রশাসনিক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দৈন্যদশা প্রকাশ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হলো।