পুরোনো ফোন বিক্রি করতে গিয়েও কেন থমকে যাচ্ছেন ভারতীয়রা!

আমাদের অনেকের বাড়িতেই ড্রয়ারে বা আলমারিতে পুরোনো স্মার্টফোন পড়ে থেকে ধুলো জমছে। স্বাভাবিক নিয়মে সেটি বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হলেও, বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এখন পুরোনো ফোন বিক্রি করতে চাইছেন না। সম্প্রতি পুনর্ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যাসিফাই’ (Cashify)-এর একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৮,০০০ মানুষের ওপর চালানো এই সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতীয় পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রি করতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসেন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে।
ডেটা চুরির আতঙ্ক ও ফ্যাক্টরি রিসেটের সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে স্মার্টফোনে ব্যাঙ্কিং তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি, জরুরি নথি এবং ব্যক্তিগত কথোপকথনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই আশঙ্কা করেন যে ফোন বিক্রির পর তাঁদের এই ব্যক্তিগত তথ্যগুলোর অপব্যবহার হতে পারে।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষ ফোন বিক্রির আগে ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশই জানেন যে, শুধু ফ্যাক্টরি রিসেট করলেই সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে যায় না। এমনকি প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা অতীতে কোনো না কোনো ফোন থেকে মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধার বা রিকভার করতে পেরেছেন। ফলে তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে এই উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে।
গ্রাহকদের অগ্রাধিকার ও কড়া আইনের দাবি
ভারতে পুরোনো ফোন বিক্রি বা এক্সচেঞ্জের প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বাড়লেও, এখন গ্রাহকদের কাছে দামের চেয়ে তথ্যের নিরাপত্তাই প্রধান হয়ে উঠেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ মানুষ ফোন বিক্রির প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন, যেখানে মাত্র ২৯.৫ শতাংশ মানুষ দামের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন।
এই পরিস্থিতির সমাধানে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কোনো রিসেল প্ল্যাটফর্ম যদি সার্টিফায়েড ডেটা ডিলিশন বা তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলার শংসাপত্র দেয়, তবেই তারা সেই প্ল্যাটফর্মকে ভরসা করবেন। এমনকি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে ডেটা মুছে ফেলার নিশ্চয়তা পেলে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অতিরিক্ত সামান্য অর্থ খরচ করতেও রাজি। এই কারণেই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৮৭.২ শতাংশ মানুষ জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, ভারতে পুরোনো স্মার্টফোন পুনর্বিক্রির আগে ডেটা মুছে ফেলা সংক্রান্ত আরও কঠোর আইন থাকা প্রয়োজন।