যোগের মহামিলনে ভাসল কলকাতার রেড রোড, সুস্থ বার্ধক্যের বার্তা দিলেন মোদী!

যোগের মহামিলনে ভাসল কলকাতার রেড রোড, সুস্থ বার্ধক্যের বার্তা দিলেন মোদী!

দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কলকাতার রেড রোড। রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ খোলা আকাশের নিচে মেগা যোগ শিবিরে অংশ নেন। এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের বুকে এত বড় মাপের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গণ-যোগাযোগের চিত্র দেখা গেল। বিশ্বজুড়ে সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব।

সুস্থ বার্ধক্য এবং বাংলার মনীষীদের স্মরণ

এবারের যোগ দিবসের মূল থিম ছিল ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বার্তা দেন, বয়স বাড়লেও যাতে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে না যায়, নিয়মিত যোগাভ্যাসের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। পঞ্চাশ বছর বয়সেও তিরিশ বছরের মতো সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার আহ্বান জানান তিনি। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শ্লোক এবং স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঋষি অরবিন্দের জীবনদর্শনের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, যোগ কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক স্থিরতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি ‘যোগ ৩৬৫’ এবং বিশ্বের ১৩০টি দেশের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া ১০০ দিনের অনলাইন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে যোগ দিবসের এই বিপুল সাফল্যের পেছনে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন একটি বড় প্রভাবক হিসেবে উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দেন যে, পূর্ববর্তী সময়ে এই দিবস উদযাপনে সরকারি অনীহা থাকলেও বর্তমানে বাংলার এক কোটিরও বেশি মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান সচেতনতার প্রমাণ। রেড রোডের এই যোগ শিবিরের পর প্রধানমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে পৌঁছান। সেখানে দেশের আত্মনির্ভরতার শক্তি প্রদর্শন করে তিনি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নৌবাহিনীর তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ— আইএনএস দুনগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয় দেশের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পরেই তিনি দিল্লির পথে রওনা হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *