অবসান দীর্ঘ জলযন্ত্রণার, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ!

রাজ্যে পালাবদলের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে দীর্ঘদিনের আটকে থাকা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে বড়সড় গতি এল। সোমবার রাজ্য বিধানসভায় নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের দীর্ঘদিনের দড়ি টানাটানির পর এই বিপুল বরাদ্দের ফলে ঘাটালবাসীর দীর্ঘস্থায়ী জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
বন্যার মূল কারণ ও প্রকল্পের প্রভাব
শীলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির অববাহিকায় অবস্থিত ঘাটাল এলাকা প্রায় প্রতি বছরই বন্যার কবলে পড়ে। এর প্রধান কারণ হলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় জমিদারদের তৈরি করা বাঁধগুলোর বর্তমান ভগ্নদশা। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়া এই সার্কিট বাঁধগুলো ভেঙে মূলত প্লাবনের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, জোয়ারের জলের সঙ্গে আসা পলি নদীবাঁধ উপচে ছড়াতে না পারায় তা নদীর বুকেই জমতে থাকে, যার ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে। মাস্টার প্ল্যানটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে নদী সংস্কার ও বাঁধের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যার প্রকোপ থেকে মুক্তি পাবেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান
দীর্ঘদিন ধরে এই মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিস্তর রাজনৈতিক তরজা চলেছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার পিছনে কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনাকে দায়ী করত। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে জলযন্ত্রণা মেটাতে না পারার কারণে তৃণমূল সাংসদ দেব ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ানোর আর্জি জানালে বিষয়টি নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিলেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ধাপে ধাপে কাজ শুরু হয়। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, নতুন সরকারের এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বড় অঙ্কের অর্থবরাদ্দের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত গতি পেল।