সই-জালিয়াতির ভয়! নিউটাউনে ‘আসল’ তৃণমূলের গোপন বৈঠকে কোর্ট পেপারে সই করালেন ঋতব্রত

কলকাতা: বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ড নিয়ে যখন গোটা রাজ্যের রাজনীতি সরগরম, ঠিক তখনই চরম সতর্ক পদক্ষেপ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল (New TMC)। সোমবার নিউটাউনের এক বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত গোপন বৈঠকে উপস্থিত নেতা ও কাউন্সিলরদের দিয়ে রীতিমতো কোর্ট পেপারে সই করিয়ে নিলেন ঋতব্রতরা! প্রমাণস্বরূপ গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে।

গোপন বৈঠকে হাজির ফিরহাদ-জাভেদ-সহ হেভিওয়েটরা

সূত্র অনুযায়ী, নিউটাউনের এই অভিজাত হোটেলে সোমবার দুপুরেই কলকাতা পুরনিগমের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কাউন্সিলর পৌঁছন। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে এই বৈঠকে উপস্থিত হেভিওয়েটদের নাম:

  • বৈঠকে হাজির ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক জাভেদ খান।
  • উপস্থিত ছিলেন জুঁই বিশ্বাস, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
  • এছাড়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ‘আসল’ তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

কেন কোর্ট পেপারে সই ও ভিডিও রেকর্ডিং?

বিধানসভার সই জালিয়াতি বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়েই এই নজিরবিহীন সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • কোর্ট পেপারের বয়ান: কোর্ট পেপারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাঁরা এই বৈঠকে রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ ‘স্বেচ্ছায়’ উপস্থিত হয়েছেন।
  • ভবিষ্যতে যাতে কেউ নিজের উপস্থিতি অস্বীকার করতে না পারেন বা সই জালিয়াতির পাল্টা অভিযোগ তুলতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই কোর্ট পেপারের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বৈঠকের ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে।

সই জালিয়াতি কাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও দলে ভাঙন

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে যে রেজোলিউশন বুক পাঠানো হয়েছিল, তাতে ৭০ জন বিধায়কের সই ছিল। কিন্তু এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, কালীঘাটের বৈঠকে তাঁরা উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। স্পিকারের কাছে তাঁরা এই বিষয়ে নালিশও জানান।

পরবর্তীতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এরপরেই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং দলে চরম ভাঙন শুরু হয়। বর্তমানে সেই সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে নেমেই সিআইডি (CID) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে মদন মিত্রদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আর এই আবহে ঋতব্রতদের কোর্ট পেপারে সই করানোর কৌশল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রার যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *