ক্ষমতায় আর ফিরবেন না, বিধানসভায় মমতাকে তীব্র কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় নিজের প্রথম জবাবি ভাষণেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর সরকার কোনোভাবেই বাধা দেবে না। তবে একইসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিরোধীরা চাইলে রোজ মিছিল করতে পারে, কিন্তু তারা আর কোনোদিন ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।
অতীতের তিক্ততা ও বর্তমানের অবস্থান
মুখ্যমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে অতীত রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতা। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে পদে পদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এদিন সরব হন শুভেন্দু। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিগত তৃণমূল আমলে তাঁকে পাঁচবার বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, সাড়ে এগারো মাস সাসপেন্ড করে রাখা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে ১০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। প্রতিটি সভার অনুমতির জন্য তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। সেই অগণতান্ত্রিক আচরণের বদলা হিসেবে তিনি যে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রানি রাসমণি সরণিতে ধর্নায় বসার আবেদন জানালে, পুলিশি পরামর্শে তিনি নিজেই ওয়াই চ্যানেলে তা অনুমোদন করেছেন বলে জানান।
দুর্নীতির অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
বিরোধীদের রাজনৈতিক পরিসর ছেড়ে দিলেও দুর্নীতির প্রশ্নে যে তাঁর সরকার কোনো আপস করবে না, এদিন সেই বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (বিজিবিএস)-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান রাজ্যের আগামী রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বিরোধীদের কর্মসূচির অনুমতি দিয়ে তিনি যেমন সরকারের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন, অন্যদিকে অতীত দুর্নীতির খতিয়ান সামনে এনে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার সুকৌশলী প্রভাব বিস্তার করছেন। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও উত্তপ্ত ও আক্রমণাত্মক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।