বিদেশি বা মুঘল-পাঠানদের নামে আর রাস্তা নয়! কলকাতার রাস্তার নাম বদলাতে বিশেষ কমিটি গড়লেন শুভেন্দু

কলকাতা: রাজ্যের ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই কলকাতার রাস্তার নাম বদলের পথে হাঁটল নতুন সরকার। মুঘল, পাঠান বা বিদেশিদের নামে আর কোনও রাস্তা থাকবে না তিলোত্তমায়— বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে এমনই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরোনো নাম বদলে নতুন নামকরণের জন্য মঙ্গলবার একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ কমিটির দায়িত্বে কে?
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামী প্রদীপানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে এই নতুন নামকরণ মূল্যায়ন কমিটি কাজ করবে। পদ্মশ্রী সম্মানিত এই মহারাজের কমিটিতে যে কেউ নামের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাস্তার নাম বদল নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন:
- মুঘল-পাঠানদের নাম নয়: “এই কলকাতাতে কোনও মুঘল-পাঠানের নাম থাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কোনও বিদেশির নামে রাস্তা করতে গেলে ভাবতে হবে।”
- দেশভক্তদের সম্মান: ড. এপিজে আবদুল কালামের মতো প্রকৃত দেশভক্তদের সম্মান দেওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই সরকার তা বিবেচনা করবে।
- ইতিহাসের প্রসঙ্গ: সুরহাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা বসুকে (বীণা দাস) ব্রিটিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই তৎকালীন উপাচার্যকে ‘নাইট’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁর নামে রাস্তা থাকতে পারে না।
ইতিমধ্যেই বদলেছে সুরহাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম:
গত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এ পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত রাস্তার নাম সুরহাবর্দি অ্যাভিনিউ থেকে বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ রাখা হয়েছে। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় বহু সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন গোপাল মুখার্জি। তাই ত্রাণকর্তা হিসেবে তাঁকেই সম্মান জানানো হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, এই রাস্তার নাম কুখ্যাত মুসলিম লিগ নেতা হুসেন সুরাবর্দির নামে ছিল না, বরং ছিল তাঁর কাকা তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসান সুরাবর্দির নামে। ১৯৩২ সালে বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে বাঁচাতে স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা বসুর হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন এই হাসান। সেই কারণেই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নাইট’ উপাধি দেয়। সেই ইতিহাস তুলে ধরেই এবার শহরের রাস্তার নামগুলি ঢেলে সাজানোর অভিযানে নামল শুভেন্দু সরকার।