বিয়ের আগেই সব শেষ! লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে মৃত্যু কলকাতার অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামীর

বিয়ের আগেই সব শেষ! লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে মৃত্যু কলকাতার অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামীর

লখনউ: বিয়ের পিঁড়িতে বসার অপেক্ষায় ছিলেন দু’জনে। দুই পরিবারের মধ্যে কথাও একপ্রকার পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সব স্বপ্ন ছাই করে দিল। লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা অনামিকা সামন্ত (৩০) এবং তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমার (২৭)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই সংস্থাতেই কর্মরত অনামিকার খুড়তুতো বোন সোমিল্যারও (২৭)।

কর্মক্ষেত্র থেকেই সম্পর্কের শুরু

কলকাতার মেয়ে অনামিকা কর্মসূত্রে লখনউয়ে থাকতেন। সেখানে একটি অ্যানিমেশন সংস্থায় কাজ করার সুবাদেই সহকর্মী নীলেশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিণতি পায়। দুই পরিবারও তাঁদের এই সম্পর্ক হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল।

পাকা কথার পরই বিপর্যয়

দুর্ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে জোরকদম আলোচনা চলছিল:

  • গত সপ্তাহেই কলকাতা থেকে অনামিকার বাবা-মা লখনউয়ে গিয়ে নীলেশের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বিয়ের আনুষ্ঠানিক কথা সেরে এসেছিলেন। ছোট একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানও হয়।
  • আগামী সপ্তাহেই নীলেশের পরিবারের পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা ছিল। বিয়ের চূড়ান্ত আলোচনার জন্য ট্রেনের টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল।
  • কর্মক্ষেত্রে উন্নতি ও নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আগামী বছর বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন নীলেশ।

সোমবারের সেই ভয়াবহ আগুন

সোমবার লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার ওই বাণিজ্যিক ভবনে আচমকাই ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই ভবনেই চলত অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, বহু শিক্ষার্থী ও কর্মী ভেতরেই আটকে পড়েন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।

অপূর্ণ রয়ে গেল স্বপ্ন

প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন নীলেশ। শোকে পাথর নীলেশের বাবা শত্রুঘ্ন লাল বলেন, “ছেলেটা প্রতিদিন হাসিমুখে কাজে যেত। কখনও ভাবিনি, ওটাই শেষ দেখা হবে।” প্রশাসনিক গাফিলতির দিকে আঙুল তুলে তাঁর আক্ষেপ, কোনও তদন্ত বা সরকারি আশ্বাসই আর তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। অন্যদিকে, নীলেশের মা ছেলের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন।

যে দুই পরিবার আগামী বছরের একটি শুভদিনের অপেক্ষায় উৎসবের মেজাজে ছিল, আজ তারা চোখের জলে প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানাতে ব্যস্ত। প্রশাসনের তরফ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতির তদন্ত শুরু হলেও, এই তরুণ-তরুণীর অকালে নিভে যাওয়া জীবন আর কোনও দিনই ফিরে আসবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *