বাজেয়াপ্ত হবে দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি! ‘হরিশ মুখার্জির প্রাসাদে থাকবেন ফুটপাতবাসীরা’, চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার বিধানসভায় কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা থেকে শুরু করে নিলামে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আর সেই সূত্র ধরেই আমতলা বা হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের নাম না-করা ‘প্রাসাদোপম’ বাড়িগুলিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ওই প্রাসাদগুলোতেই এবার ঠাঁই হবে কলকাতার রাস্তায় উড়ালপুলের নিচে রাত কাটানো আশ্রয়হীন মানুষদের।
মঙ্গলবার বিধানসভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী কী বললেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
আসছে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিল:
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকেই ছাড়া হবে না। তিনি বলেন, “অনেকেই ভাবছেন ২ মাস জেলে থাকলাম, তারপর আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলাম। কিন্তু তা হবে না। সবার হিসেব হবে। আমার স্বরাষ্ট্র দফতর এই অধিবেশনেই একটি বিল আনছে। বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির অনুমোদন পেলেই অধিবেশনের শেষ দিনে এই বিল পেশ হবে। এই বিলের মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তা নিলামে তোলা হবে।”
প্রাসাদে থাকবেন ফুটপাতবাসীরা:
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রসঙ্গের রেশ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বাড়ি ও কার্যালয়কে। তিনি বলেন, “ওই আমতলা, হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি রোডের প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায় যাঁরা রাতের বেলা ফ্লাইওভারের নিচে থাকেন, তাঁদের আমি রাখাব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, হরিশ চ্যাটার্জি ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের একাধিক সম্পত্তি এবং আমতলায় তৃণমূলের বড় পার্টি অফিসকেই সরাসরি কটাক্ষ করেছেন তিনি।
পাথর খাদান থেকে বিপুল রাজস্ব বৃদ্ধি:
রাজ্যের বাজেট ও আয়ের উৎস নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, “এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে আগে রাজস্ব আসত মাত্র ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা এক মাসেই রাজস্ব দিয়েছি ৮৩ কোটি টাকা। এটা খুব জলদি ১০০ কোটিতে পৌঁছাবে, অর্থাৎ বছরে ১২০০ কোটি টাকা। আগে রাজ্য সরকারের কোষাগারে যেত ১০০ কোটি, আর বাকি ১১০০ কোটি টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই চলে যেত।”
কুণাল ঘোষের আর্জি ও মুখ্যমন্ত্রীর জবাব:
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপকে সমর্থন জানান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে তিনি একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনি যা যা পদক্ষেপ করছেন, তাকে পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাউকেই যেন ছাড়া না হয়।”
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “আপনাদের কাছে যদি ওই সমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি, দুর্নীতি, ত্রিপল চুরি বা অবৈধ সম্পত্তির কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তবে তা লিখিতভাবে দিন। কথা দিচ্ছি, আমরা নিশ্চিতভাবে ব্যবস্থা নেব।”