ভরা বর্ষায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব! ১ ঘণ্টায় ২০০ বাজ ও ৭৫ কিমি ঝড়ে কাঁপল কলকাতা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/02/kolkata-howrah-on-heavy-rain-alert-2025-11-02-09-40-14.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
কলকাতা: বর্ষাকাল শুরু হয়ে গেলে সাধারণত কালবৈশাখী হয় না—মানুষের এই প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তিলোত্তমায় আছড়ে পড়ল মরশুমের অষ্টম কালবৈশাখী। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ২০০-র বেশি বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগের ঝড়ে রীতিমতো কেঁপে ওঠে কলকাতা শহর।
মঙ্গলবার দুপুর ২টোতেও বোঝা যায়নি ৪৫ মিনিট পর আবহাওয়া কতটা ভয়ংকর হতে চলেছে। চোখের পলকে হাওড়ার ধূলাগড় থেকে কলকাতার খিদিরপুরের মধ্যে বিশাল কিউমুলোনিম্বাস মেঘের স্তম্ভ ঘনিয়ে আসে এবং দিনদুপুরেই নেমে আসে সন্ধ্যার অন্ধকার।
একনজরে মঙ্গলবারের তাণ্ডব:
- ভয়াবহ বজ্রপাত: দুপুর ২টো ৪৫ থেকে ৩টে ৪৫ পর্যন্ত মাত্র এক ঘণ্টায় শুধুমাত্র মধ্য কলকাতাতেই ২০০-র বেশি বজ্রপাত হয়েছে।
- ঝড়ের দাপট: আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরে ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ কিমি।
- তুমুল বৃষ্টি: মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে শহরে ৫৯ মিমি-র বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
- বিশাল মেঘের স্তম্ভ: আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে তৈরি হওয়া কিউমুলোনিম্বাস মেঘের স্তম্ভটির উচ্চতা ছিল অন্তত ১৪ কিলোমিটার।
বর্ষায় কেন এই অকাল কালবৈশাখী?
আলিপুর হাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, আবহাওয়া বিজ্ঞানের দিক থেকে দেখলে এটি একেবারেই কোনও ‘অঘটন’ নয়। কাগজে-কলমে বর্ষা শুরু হলেও টানা বৃষ্টি না হওয়ায় ভ্যাপসা গরম ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা রয়েছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থির হয়ে ওঠে এবং বাতাসের ঊর্ধ্বমুখী উত্তোলন শক্তি প্রবল আকার ধারণ করে। এই তিনের প্রভাবেই তৈরি হয় কালবৈশাখীর পরিস্থিতি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, মেঘের ওই সুবিশাল স্তম্ভে একই সঙ্গে ‘আপড্রাফট’ (ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ) এবং ‘ডাউনড্রাফট’ (নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহ) চলছিল। এই আপড্রাফট ঝড়কে শক্তি জোগায় এবং ডাউনড্রাফটের জেরে এমন প্রলয়ংকরী বজ্রপাত ও তুমুল বৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আগামী পূর্বাভাস
এই প্রবল ঝড়বৃষ্টির জেরে কলকাতায় প্রায় ৩০টি গাছ ভেঙে পড়ে এবং শহর জুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রপাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে এমন ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।