মালদহে মাঝনদীতে নৌকায় আছড়ে পড়ল বাজ! রাজ্যজুড়ে বজ্রাঘাতে মৃত অন্তত ১৩

মঙ্গলবার বিকেলের আচমকা দুর্যোগে কার্যত মৃত্যুমিছিল দেখল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পরপর বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১৩ জন মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মালদহে, যেখানে গঙ্গাবক্ষে একটি যাত্রীবাহী নৌকায় সরাসরি বাজ পড়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। এছাড়াও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, কোচবিহার ও কাঁচরাপাড়াতেও বজ্রাঘাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
গঙ্গাবক্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও অন্যান্য প্রাণহানি
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান গঙ্গাঘাট থেকে ২৫-৩০ জন যাত্রী নিয়ে মালদহের পারলালপুর ঘাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একটি নৌকা। ঘাটে পৌঁছানোর ঠিক আগেই প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাতের কবলে পড়ে সেটি। বিকট শব্দে নৌকার ওপর বাজ পড়লে মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও ৪ যাত্রীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, মালদহের বৈষ্ণবনগরে পাটের জমিতে কাজ করার সময় বাজ পড়ে মৃত্যু হয় দুই ভাইয়ের। পাশাপাশি পুরুলিয়ায় ২ জন, বাঁকুড়ায় ২ জন, কোচবিহারে ২ জন এবং কাঁচরাপাড়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ঘটনার সময় মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন অথবা গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ ও প্রভাব
আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অত্যধিক বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতার কারণেই এই ভয়াবহ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি হয়। খোলা নদীপথ, কৃষিজমি বা গাছের নিচে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এই বিপুল প্রাণহানির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এই আকস্মিক দুর্যোগ ও প্রাণহানির ফলে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষত কৃষক ও নদীপথের নিত্যযাত্রীদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা এবং খোলা জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার তুলে ধরেছে।