প্রি-ওয়েডিংয়ের আড়ালে ভয়ংকর চক্রান্ত! পাসপোর্ট লুকিয়ে হবু স্বামীকে খাদে ফেলে খুন

নভেম্বরে রাজকীয় বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে, পরিবারের সকলেই ছিলেন আনন্দে মাতোয়ারা। কিন্তু সেই উৎসবের আমেজের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক হাড়হিম করা চক্রান্ত। পুনের ২৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মর্মান্তিক মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং হবু স্ত্রী সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরির একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। লোহাগড় দুর্গের গভীর খাদে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য।
পাসপোর্ট গায়েব ও প্রথম ব্যর্থ চেষ্টা
গত ৬ জুন সিয়া, কেতন এবং তাঁদের পরিবারের কয়েকজনের বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট ও সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কেতনের পাসপোর্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। তদন্তে উঠে আসে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এড়িয়ে কেতনকে একা পেতেই সিয়া নিজেই সেই পাসপোর্ট চুরি করে হোটেলের শৌচাগারে ছিঁড়ে ফ্লাশ করে দিয়েছিলেন। বালি সফর বাতিল হওয়ার পর, ১৪ জুন লোহাগড় দুর্গেই কেতনকে প্রথমবার ধাক্কা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন সিয়া। সে যাত্রায় একটি গাছ আঁকড়ে ধরে কেতন প্রাণে বেঁচে গেলে, সিয়া সাপের হাত থেকে বাঁচানোর মিথ্যে অজুহাত দিয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেন।
পূর্বপরিকল্পিত মৃত্যুফাঁদ ও প্রভাব
প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর ১৮ জুন, নিজের জন্মদিনের ঠিক আগের দিন, কেতনকে পুনরায় লোহাগড় দুর্গে যেতে রাজি করান সিয়া। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, খুনের জন্য একটি সাংকেতিক পদ্ধতি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। দুর্গের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছে সিয়ার বসে পড়াই ছিল লুকিয়ে থাকা প্রেমিক চেতনের জন্য ইশারা। সংকেত পাওয়ামাত্রই পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে কেতনকে গভীর খাদে ফেলে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে উৎসবের বাড়ির পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিয়ের আয়োজনের বদলে কেতনের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের জন্য আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সিয়া ও চেতনকে গ্রেফতার করেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি সম্ভাবনাময় জীবনকেই কেড়ে নেয়নি, বরং সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।