শুকোবে জমি, আগুন হবে বাজার! দেশে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ‘এল নিনো’, সতর্ক করল রাষ্ট্রসঙ্ঘ

শুকোবে জমি, আগুন হবে বাজার! দেশে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ‘এল নিনো’, সতর্ক করল রাষ্ট্রসঙ্ঘ

ভারতে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ‘এল নিনো’ (El Nino) সঙ্কট। চলতি বছরের জুন থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যেই এই আবহাওয়াগত পরিবর্তন চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করল রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN)। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই পরিস্থিতির প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। এর জেরে শুধু আবহাওয়া নয়, দেশের অর্থনীতি, কৃষি এবং জনস্বাস্থ্যেও বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, এল নিনোর জেরে ভারতে কী কী প্রভাব পড়তে পারে, তা একনজরে দেখে নিন:

কৃষিক্ষেত্রে চরম বিপর্যয় স্বাভাবিকের তুলনায় দেশে বৃষ্টিপাত অনেকটাই কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে (যদিও তা ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরু বা IOD-এর ওপর কিছুটা নির্ভরশীল)। বৃষ্টি কমলে ধান, গম-সহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বিপুল হারে কমে যেতে পারে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যাওয়ায় সেচের জলের অভাব দেখা দেবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির খাঁড়া ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে ফসলের ফলন কমলে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম হু হু করে বাড়বে। এর সঙ্গে সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলবে। মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছালে আমজনতার দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

জনস্বাস্থ্যে বড়সড় থাবা বিশ্বজুড়ে চলা চরম তাপপ্রবাহের মাঝেই এল নিনোর দাপট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলবে। ভারতে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, তীব্র জলসঙ্কট এবং বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশুদ্ধ জলের অভাবে দূষিত জল ব্যবহারের কারণে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট শিশু, বয়স্ক নাগরিক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং দরিদ্র পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *