অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত চিনা যুদ্ধবিমান এবার বাংলাদেশের হাতে!

দীর্ঘদিনের পুরনো যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে চিনের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান চিন সফরে ২৪টি ‘চেংদু জে-১০সিই’ (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অগাস্ট মাসেই প্রায় ২২০ কোটি ডলারের এই বিশাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং ২০২৬ সালের শেষভাগ বা ২০২৭ সালের শুরুতে বিমানগুলো বাংলাদেশের হাতে আসবে। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও পাইলটদের প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কেন এই চিনা যুদ্ধবিমান কিনছে ঢাকা
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে থাকা ৪০ থেকে ৪৪টি যুদ্ধবিমানের বেশিরভাগই সেকেলে মডেলের চেংডু F-7/J-7 এবং কয়েকটি রাশিয়ান মিগ-২৯। আধুনিক যুদ্ধবিমানের এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন বিমান কেনার উদ্যোগ। জে-১০সিই চিনের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান, যা ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে সক্ষম এবং দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে। এর ১১টি হার্ডপয়েন্টে আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও নিখুঁত বোমাসহ মোট ৫,৬০০ কেজি অস্ত্র বহন করা যায়। অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স ব্যবস্থা ও শত্রুর জ্যামার উপেক্ষা করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার ক্ষমতা একে বিশেষত্ব দিয়েছে। রাফাল বা এফ-১৬ এর তুলনায় দাম বেশ কম (প্রতিটি প্রায় ৪ কোটি ডলার) হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য একটি আদর্শ বিকল্প। আধুনিকায়নের এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাটের একটি বিমানঘাঁটিরও সংস্কার করছে বাংলাদেশ।
ভারতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
এই চুক্তির ফলে সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে চিনের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কাছেও এই একই যুদ্ধবিমান রয়েছে যা তারা ভারতের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ব্যবহার করেছিল। ফলে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম, উভয় সীমান্তেই চিনা যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি কৌশলগতভাবে একটি নতুন ভাবনার জায়গা তৈরি করছে। তবে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভারতের জন্য বড় কোনো অশনিসংকেত নয়। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ‘ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড’-এর অধীনে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে সবসময় সুখোই এবং রাফালের মতো ৬০ থেকে ৭০টি অত্যাধুনিক বিমান মোতায়েন থাকে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শক্তির বিচারে চিনা যুদ্ধবিমানের তুলনায় ভারতের রাফাল অনেকটাই এগিয়ে থাকায় আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ভারতের হাতেই থাকছে।