সোশাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের ফাঁদ, গুরগাঁওয়ে বাঙালি তরুণীকে ধর্ষণ করে প্রভাব খাটিয়ে মুক্ত অভিযুক্ত!

সোশাল মিডিয়ায় পাতা বন্ধুত্বের ফাঁদে পা দিয়ে চরম পরিণতির শিকার হলেন এক বাঙালি তরুণী। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৬৭-র একটি হোটেলে দেখা করার পর পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু পাশবিক অত্যাচারই নয়, ঘটনার পর ওই তরুণীকে অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ডিজিটাল দুনিয়ার অপরিচিত মানুষের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
প্রভাবশালী আত্মীয়ের জোরে অধরা সুবিচার
ঘটনার পর গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৬৫ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭২/২০৬ এবং ৬৪(১)(এ) ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করলেও সুবিচার পাননি তরুণী। অভিযোগ, যুবকের কাকা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। সেই প্রভাবকে হাতিয়ার করেই খুব সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়ে যায় সে। আইনের ফাঁক গলে অপরাধীর এই দ্রুত মুক্তি প্রশাসনের ভূমিকা ও বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
হুমকি ও প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা
জামিনে মুক্ত হয়েই ফের স্বমূর্তিতে ফিরেছে অভিযুক্ত। তরুণীর দাবি, জেলের বাইরে এসে এখন তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার যাবতীয় প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও চলছে। প্রাণের ভয়ে ও লাগাতার হুমকির জেরে তরুণী ফের থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি কতটা সুবিচার পাবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। দিনের পর দিন এই মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ওই তরুণী এখন কেবল উপযুক্ত বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা প্রভাবশালী হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া কতটা কঠিন এবং এর ফলে সমাজে নারী নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার গভীর সংকটের মুখে পড়ে।