পুণে হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়, খুনের দায় অস্বীকার করল অভিযুক্ত চেতনের পরিবার!

পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট চলাকালীন হবু স্বামী কেতন বিশাল অগরওয়ালকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী নভেম্বরেই কেতন ও সিয়ার বিয়ের কথা ছিল, যার জন্য ১৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল। তবে বিয়ের আগেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ত্রিকোণ প্রেমের এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ওড়ালেন চেতনের বাবা
পুলিশের হাতে চেতন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর বাবা বাবুলাল চৌধুরী দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে এই খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। তাঁর কথায়, ঘটনার দিন চেতন একটি ব্যবসায়িক মিটিংয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল এবং লোহাগড় দুর্গের ঘটনা সম্পর্কে পরিবারের কোনও ধারণাই ছিল না। বাবুলালের দাবি, চেতন তাঁকে জানিয়েছে যে সে ঘটনাস্থল থেকে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সিয়াই তখন কেতনের কাছাকাছি ছিল। চেতন প্রথম থেকেই খুনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে বলে তাঁর বাবা জানিয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যভেদ ও পুলিশের দাবি
পুলিশি তদন্তে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর উদ্দেশ্যেই গত ১৮ জুন কেতনকে ৩৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে খুন করা হয়। লোহাগড়ের সিসিটিভি ফুটেজে ভ্যাপসা গরমে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও হুডি পরিহিত এক যুবকের সন্দেহজনক গতিবিধি পুলিশের নজরে আসে। পরে তদন্তে স্পষ্ট হয় যে ওই যুবকই চেতন। লাগাতার জেরার মুখে ভেঙে পড়ে সিয়া খুনের কথা স্বীকার করে নেন। ডিজিটাল প্রমাণ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও কল রেকর্ড থেকে সিয়া এবং চেতনের গোপন সম্পর্কের বিষয়টিও নিশ্চিত করে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই এই নৃশংস হত্যার ছক কষা হয়েছিল, যার জেরে একটি নিশ্চিত হতে চলা বিয়ে এক ভয়ংকর অপরাধে পরিণত হল এবং অভিযুক্তদের কড়া আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।